হলদিবাড়িতে মাঝরাতে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, সেক্টর অফিসারের গাড়িতে অতিরিক্ত ইভিএম ঘিরে চরম উত্তেজনা!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় কোচবিহারের ১৫২টি কেন্দ্রে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার রেকর্ডের মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল হলদিবাড়ি। বৃহস্পতিবার রাতে হলদিবাড়ি শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বালাডাঙা জুনিয়র বেসিক স্কুলের সামনে সেক্টর অফিসারের গাড়ি ঘিরে শুরু হয় বিজেপি সমর্থকদের তুমুল বিক্ষোভ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই গাড়িতে কেন অতিরিক্ত ইভিএম রাখা ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ এনেছে গেরুয়া শিবির।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও বিক্ষোভ
বিজেপির দাবি, মূল ইভিএম বদলে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কোনো পুলিশি পাহারা ছাড়া ওই অতিরিক্ত ইভিএম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেখলিগঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় এবং নেতা অর্ঘ্য রায় প্রধান কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পথ অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘক্ষণ প্রশাসনের আধিকারিকদের সাথে বিজেপি নেতৃত্বের বচসা চলায় এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
প্রশাসনের আশ্বাস ও পরবর্তী পদক্ষেপ
উত্তেজনা কমাতে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা মধ্যস্থতা করেন। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইভিএমটি ডিসিআরসি (DCRC) কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সামনেই পরীক্ষা করা হবে। প্রশাসনের এই আশ্বাসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও আশঙ্কা কাটেনি বিজেপি শিবিরের। এমনকি ডিসিআরসি-র পথে রওনা হওয়া সেক্টর অফিসারের গাড়ির পিছু ধাওয়া করেন স্বয়ং বিজেপি প্রার্থী।
ভোটের ডিউটিতে থাকা সেক্টর অফিসারের গাড়িতে কেন নিরাপত্তা ছিল না এবং কেনই বা অতিরিক্ত ইভিএম বহন করা হচ্ছিল, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই এই ইভিএম বিতর্ক উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে, যা আগামী দফার নির্বাচনগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- হলদিবাড়ির ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সেক্টর অফিসারের গাড়ি ঘিরে মধ্যরাতে বিজেপির বিক্ষোভ ও উত্তেজনা।
- কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই গাড়িতে অতিরিক্ত ইভিএম বহনের দায়ে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ।
- বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায়ের নেতৃত্বে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ ও প্রশাসনের সাথে বচসা।
- বিতর্কিত ইভিএম ডিসিআরসি কেন্দ্রে পরীক্ষার আশ্বাস এবং কমিশনের কাছে অভিযোগের প্রস্তুতি।