ইরানের ওপর কি পরমাণু হামলা চালাবে আমেরিকা, জল্পনা উড়িয়ে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে বিশ্বজুড়ে দানা বেঁধেছিল এক ভয়াবহ আশঙ্কা। ওয়াশিংটন তেহরানকে বাগে আনতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে বলে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না আমেরিকা। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা বর্তমানে নেই এবং এটি কারও দ্বারাই কখনও ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রচলিত আক্রমণেই কোণঠাসা ইরান
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, পরমাণু অস্ত্রের প্রয়োজন নেই কারণ আমেরিকার প্রচলিত সামরিক আঘাতেই ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তেহরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ধ্বংসের মুখে। তিনি আরও জানান, ইরানের রাডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছে এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্বও চরম সংকটে। ফলে প্রচলিত অস্ত্রের মাধ্যমেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে পেন্টাগন।
দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে ওয়াশিংটন
কূটনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি তড়িঘড়ি কোনো চুক্তিতে না গিয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটতে চান। যদিও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান নিজেদের সামরিক শক্তি কিছুটা বাড়িয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তবে তা মোকাবিলায় আমেরিকা প্রস্তুত। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংলগ্ন জলসীমায় তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সামরিক আধিপত্যকে আরও সুসংহত করেছে।
এক ঝলকে
- ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- আমেরিকার প্রচলিত সামরিক হামলায় ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনী প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের।
- মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে তিনটি মার্কিন রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
- তড়িঘড়ি কোনো চুক্তির বদলে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে আমেরিকা।