ভয়ংকর ভালোবাসা! স্বামীর লাশের সাথে ৪ বছর বসবাস, ঘরজুড়ে ছিল খুলি আর তন্ত্রমন্ত্রের সরঞ্জাম

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে এক শিউরে ওঠা ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে ৪৬ বছর বয়সী এক নারী দীর্ঘ চার বছর ধরে তার মৃত স্বামীর লাশের সাথে একই বিছানায় বসবাস করছিলেন। ভ্লাদিমির নামক ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল ২০২০ সালে, কিন্তু তার স্ত্রী সভেতলানা বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। এমনকি নিজের চারটি সন্তানকেও এই সত্য গোপন রাখতে বাধ্য করেন তিনি। সম্প্রতি সমাজকর্মীরা ওই বাড়িতে পরিদর্শনে গেলে এই ভয়াবহ ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়।
সন্তানদের ওপর মানসিক চাপ ও হুমকি
তদন্তে জানা গেছে, সভেতলানা তার ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানদের ওপর কঠোর মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। খবরটি জানাজানি হলে তাদের অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এমন হুমকি দিয়ে তিনি সন্তানদের মুখ বন্ধ রাখতেন। সন্তানদের সামনেই তাদের বাবার মৃতদেহটি কম্বলে মুড়িয়ে নিজের শোবার ঘরে এনে রেখেছিলেন ওই নারী। চার বছর ধরে সমাজকর্মীরা কয়েকবার বাড়িটিতে গেলেও রহস্যময় এই লাশের হদিশ পাননি, কারণ নারীটি অত্যন্ত কৌশলে দেহটি লুকিয়ে রাখতেন।
তুকতাক ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস
ঘটনার পেছনে এই দম্পতির অতিপ্রাকৃত বা গুপ্ত বিদ্যায় (Occultism) আসক্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে মাথার খুলি, ট্যারোট কার্ড, তাবিজ এবং প্রাচীন মিশরীয় দেবতার ছবিসহ নানা রহস্যময় সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। সভেতলানার বিশ্বাস ছিল, কোনো এক অলৌকিক উপায়ে তার স্বামী আবার জেগে উঠবেন। প্রতিবেশীদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার সময় অভিশাপ দেওয়ার পরপরই ভ্লাদিমির হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, যা সভেতলানাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।
এই ঘটনার ফলে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রুশ প্রশাসন বর্তমানে ওই নারী ও শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা ও কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। একই সাথে কেন চার বছর ধরে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এল না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
এক ঝলকে
- রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে স্বামীর লাশের সাথে চার বছর ধরে এক বিছানায় কাটিয়েছেন এক নারী।
- সন্তানদের অনাথ আশ্রমে পাঠানোর ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়।
- বাড়ি থেকে মিশরীয় ক্রস, খুলি ও তুকতাকের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।
- মানসিকভাবে বিপর্যস্ত নারী বিশ্বাস করতেন তার স্বামী অলৌকিক শক্তিতে আবার বেঁচে উঠবেন।