গুরুকুলে নৃশংসতা: ১১ বছরের বালকের শরীরে ৪২টি ক্ষত, ১১ বার সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে খুন!

উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। লখনউয়ের রামানুজ ভাগবত বেদ বিদ্যাপীঠ নামক একটি গুරුকুলের ১১ বছর বয়সী ছাত্র দিব্যাংশকে পিটিয়ে ও অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ওই শিশুর শরীরে ৪২টি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং ১১টি জায়গায় সিগারেটের ছ্যাঁকার ক্ষত পাওয়া গেছে। এই নৃশংস ঘটনার মূল অভিযুক্ত আর কেউ নয়, স্বয়ং ওই গুරුকুলের পরিচালক তথা শিশুর সম্পর্কে মামা সৌরভ মিশ্র ওরফে কানহাইয়া।
শাসন নাকি পাশবিক নির্যাতন
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য। অভিযুক্ত সৌরভ পুলিশকে জানিয়েছে, দিব্যাংশ গুරුকুলের নিয়ম মানছিল না এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী ছিল, তাই তাকে ‘শাসন’ করা হয়েছে। তবে এই শাসনের নামে শিশুটিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা, লাঠি ও রড দিয়ে মারধর এবং সারা রাত ধরে নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তের লাথিতে শিশুটি দেয়ালে সজোরে আঘাত পায় এবং জ্ঞান হারায়। পরদিন সকালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেলে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায় সৌরভ।
প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও আইনি পদক্ষেপ
অভিযুক্ত সৌরভ নিজের প্রেমিকা প্রিয়াঙ্কার সহায়তায় গুරුকুলের সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ সৌরভকে গ্রেফতার করেছে এবং তার সহযোগীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে নিহত শিশুর বাবা নরেন্দ্র কুমার অভিযোগ করেছেন, কেবল মারধর নয়, শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হতে পারে। পুলিশ ইতিমধ্যে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এক ঝলকে
- কানপুরের ১১ বছরের ছাত্র দিব্যাংশকে পিটিয়ে ও সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা।
- ময়নাতদন্তে নিহতের শরীরে ৪২টি আঘাতের চিহ্ন ও ১১টি পোড়া ক্ষত শনাক্ত।
- পড়াশোনায় অমনোযোগিতার অজুহাতে অভিযুক্ত মামা সৌরভ মিশ্রের পাশবিক নির্যাতন।
- সিসিটিভি ফুটেজ মুছে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার।