খুন করে ডায়েরিতে রাখত হিসাব, বুদ্ধির লোভে খেত মানুষের ঘিলু! কীভাবে ধরা পড়ল এই সাইকো কিলার?

ভারতের অপরাধ জগতের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে যা শুনলে আজও সাধারণ মানুষের রক্ত হিম হয়ে যায়। উত্তরপ্রদেশের রাম নিরঞ্জন ওরফে রাজা কোলন্দর এমনই এক সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলার, যার নৃশংসতা হার মানিয়েছিল যে কোনো ভৌতিক সিনেমাকেও। ২০০০ সালে লখনউয়ের এক সাংবাদিক মনোজ কুমার সিংয়ের নিখোঁজ রহস্য তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ যখন এলাহাবাদের কাছে কোলন্দরের ফার্মহাউসে হানা দেয়, তখন বেরিয়ে আসে এক বিভীষিকাময় সত্য। সেখানে পাওয়া যায় সারিবদ্ধ মানুষের মাথার খুলি এবং নরকঙ্কাল, যা দেখে শিউরে উঠেছিলেন খোদ দুঁদে পুলিশ কর্তারাও।
বুদ্ধি বাড়ানোর বিকৃত নেশা
রাজা কোলন্দরের অপরাধের ধরন ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত ও বীভৎস। সে মূলত শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের টার্গেট করত। তার বিশ্বাস ছিল, কোনো বুদ্ধিমান মানুষের মস্তিষ্কের অংশ দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খেলে তার নিজের জ্ঞান এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই উন্মাদনা থেকেই সে অন্তত ১৪ জন মানুষকে হত্যা করেছিল। হত্যার পর সে মাথার খুলির উপরের অংশ কেটে মগজ বের করে তা ফুটিয়ে পান করত। সে নিজেকে এক কাল্পনিক রাজ্যের রাজা মনে করত এবং মৃতব্যক্তিদের মাথার খুলিগুলোকে তার প্রজাদের প্রতীক হিসেবে সাজিয়ে রেখে তাদের সাথে কথা বলত।
মোবাইল লোকেশনেই পতন
তদন্তে জানা যায়, সাংবাদিক মনোজ সিং তার কিছু অবৈধ কাজের কথা জেনে যাওয়ায় তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করে কোলন্দর। তবে শেষরক্ষা হয়নি প্রযুক্তিগত সতর্কতার অভাবে। নিখোঁজ মনোজের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করেই পুলিশ পৌঁছাতে সক্ষম হয় এই নরখাদকের ডেরায়। ২০১২ সালে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের জেলেই সাজা খাটছে এই বিকৃতমনস্ক খুনি। তার এই অপরাধ কেবল শারীরিক নৃশংসতা নয়, বরং ক্ষমতার লোভ এবং মানসিক বিকৃতির এক চরম নিদর্শন হিসেবে থেকে গিয়েছে।
এক ঝলকে
- সাংবাদিক মনোজ সিং হত্যা মামলার তদন্তে নেমে ২০০০ সালে রাজা কোলন্দরের নারকীয় সাম্রাজ্যের হদিস পায় পুলিশ।
- জ্ঞান বৃদ্ধির অন্ধবিশ্বাসে সে মানুষকে হত্যা করে তাদের মস্তিষ্কের স্যুপ বানিয়ে পান করত।
- নিজের ডায়েরিতে সে অন্তত ১৪ জনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল এবং মানুষের মাথার খুলি দিয়ে ঘর সাজাত।
- বর্তমানে রাজা কোলন্দর উত্তরপ্রদেশের কারাগারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে।