পাঞ্জাবে বড় ধস! রাঘব চাড্ডা সহ ৭ সাংসদ বিজেপিতে, কেজরিওয়ালকে বড় ধাক্কা দিয়ে ‘পদ্ম’ শিবিরে আপ নেতারা

পাঞ্জাবে বড় ধস! রাঘব চাড্ডা সহ ৭ সাংসদ বিজেপিতে, কেজরিওয়ালকে বড় ধাক্কা দিয়ে ‘পদ্ম’ শিবিরে আপ নেতারা

আম আদমি পার্টিতে বড়সড় ধস নামিয়ে বিজেপি শিবিরে যোগ দিলেন রাঘব চাড্ডা ও সন্দীপ পাঠকসহ মোট ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ। সংবিধান ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আপ-এর অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও আপোসের অভিযোগ তুলে তারা দলত্যাগের ঘোষণা দেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই এই সাংসদ দলটি বিজেপির সঙ্গে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এই দলবদল দিল্লির রাজনীতিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের জন্য যেমন বড় ধাক্কা, তেমনি রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি বৃদ্ধিতে এটি এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল।

রাজ্যসভার সমীকরণে বড় পরিবর্তন

সাংসদদের এই দলবদলের ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে এনডিএ জোটের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৭ জন নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ায় রাজ্যসভায় এনডিএ-র আসন সংখ্যা ১৪১ থেকে বেড়ে ১৪৮-এ দাঁড়াল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে বিজেপি এখন মাত্র ১৮টি আসন দূরে রয়েছে। উপরাষ্ট্রপতি ও রাজ্যসভার সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির পর এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে, যা গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকারের পথ আরও প্রশস্ত করবে।

পাঞ্জাব দখলের নতুন কৌশল

আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি বিজেপির ‘মিশন পাঞ্জাব’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত নির্বাচনে আম আদমি পার্টির জয়ের নেপথ্যে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী রাঘব চাড্ডা ও সন্দীপ পাঠককে দলে টেনে বিজেপি সরাসরি পাঞ্জাবের শাসক দলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অকালি দল দুর্বল হয়ে পড়ায় এবং কংগ্রেসের প্রতি অনাস্থা থাকায় বিজেপি এখন পাঞ্জাবের শিখ ও তফশিলি জাতিভুক্ত ভোটারদের নিজের দিকে টানতে চাইছে। সম্প্রতি এইচ এস ফুলকার অন্তর্ভুক্তি এবং ডেরা সচখন্ড বাল্লানের সাথে জনসংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিজেপি রাজ্যে নিজেদের নতুন বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

এক ঝলকে

  • রাঘব চাড্ডাসহ আম আদমি পার্টির ৭ জন রাজ্যসভা সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
  • দলত্যাগের কারণ হিসেবে তারা আপ-এর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও আদর্শগত বিচ্যুতিকে দায়ী করেছেন।
  • এর ফলে রাজ্যসভায় এনডিএ-র শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮ আসনে পৌঁছেছে।
  • আগামী পাঞ্জাব নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই বিজেপির এই রণকৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *