মৃত্যুর ঠিক আগে স্বামীর কুকীর্তি ফাঁস! পাহাড় থেকে ঠেলে দিলেও মরার আগে আসল সত্য জানিয়ে গেলেন গর্ভবতী স্ত্রী

মৃত্যুর ঠিক আগে স্বামীর কুকীর্তি ফাঁস! পাহাড় থেকে ঠেলে দিলেও মরার আগে আসল সত্য জানিয়ে গেলেন গর্ভবতী স্ত্রী

স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গের পর্যটন কেন্দ্র ‘আর্থার সিট’ পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ফউজিয়া জাভেদ নামের এক তরুণী আইনজীবী। নিজের স্বামী কাশিফ আনোয়ারের হাতে ৫০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে নিক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী। সম্প্রতি এডিনবার্গের একটি আদালত এই নৃশংস অপরাধের জন্য ঘাতক স্বামীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ছুটির দিনে স্ত্রীকে সূর্যাস্ত দেখানোর নাম করে পাহাড়ের নির্জন চূড়ায় নিয়ে যান কাশিফ। সেখানে ফউজিয়াকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করার পর আচমকা পাহাড়ের নিচে ঠেলে দেন তিনি। কাশিফ ঘটনাটিকে একটি দুর্ঘটনা বা সেলফি তোলার সময় ভারসাম্য হারানোর গল্প সাজাতে চেয়েছিলেন। তবে পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা মুমূর্ষু ফউজিয়া মৃত্যুর আগে এক পথচারী ও পুলিশ কর্মকর্তার কাছে স্বামীর নির্মমতার সত্য প্রকাশ করে যান।

ফউজিয়া জাভেদ পেশায় একজন আইনজীবী হওয়ায় নিজের ওপর চলা নির্যাতনের প্রমাণ আগে থেকেই নথিভুক্ত করে রেখেছিলেন। তিনি এই বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করেছিলেন, যা সম্ভবত কাশিফের চরম আক্রোশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, কাশিফ পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন যাতে স্ত্রীর বিচ্ছেদ ও আইনি পদক্ষেপ থেকে বাঁচা যায়।

ভয়াবহ পরিণতির নেপথ্যে

পারিবারিক কলহ ও স্বামীর অবমাননাকর আচরণ এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে সবকিছু রাখতে চেয়েছিল এবং স্ত্রীর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে এই হীন পথ বেছে নেয়। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে পারিবারিক সহিংসতা এবং তার চরম পরিণতি সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এক ঝলকে

  • স্কটল্যান্ডের আর্থার সিট পাহাড়ে ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী কাশিফ আনোয়ারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
  • ফউজিয়া জাভেদ নামের ওই নারী ৫০ ফুট নিচে পড়ে গিয়েও মৃত্যুর আগে পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বামীর অপরাধ ফাঁস করে দেন।
  • পেশায় আইনজীবী ফউজিয়া আগে থেকেই স্বামীর নির্যাতনের কথা তার মাকে জানিয়েছিলেন এবং বিচ্ছেদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
  • ঘাতক স্বামী ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করলেও প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সাক্ষ্যে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *