পাঞ্জাবকে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে বিজেপি! ৭ এমপির দলবদলের পর বিস্ফোরক কেজরিওয়াল

আয়ম আদমি পার্টির (আপ) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের ধস নামিয়ে রাজ্যসভার সাতজন সংসদ সদস্য একযোগে দলত্যাগ করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠকের মতো প্রভাবশালী নেতারা। দলত্যাগী এই সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় দিল্লির রাজনীতির পাশাপাশি পাঞ্জাব ও জাতীয় রাজনীতিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন। দলত্যাগের পর প্রতিক্রিয়ায় কেজরিওয়াল একে বিজেপির পক্ষ থেকে ‘পাঞ্জাবিদের পিঠে ছুরি মারা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আইনি মারপ্যাঁচ
রাঘব চাড্ডা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, রাজ্যসভায় আপের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ একমত হয়েই বিজেপিতে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবিধানের নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অশোক মিত্তলকে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে রাজ্যসভায় দলের উপনেতা করা হয়েছিল, কিন্তু তার সম্পদের ওপর ইডি-র ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালে কেজরিওয়ালের বাসভবনে নিগ্রহের শিকার হওয়া স্বাতি মালিওয়ালও এই দলত্যাগী শিবিরে যোগ দিয়েছেন।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
এই গণ-দলত্যাগের ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে আম আদমি পার্টির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেল। বিশেষ করে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে এর গভীর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ দলত্যাগী নেতাদের একটি বড় অংশ ওই রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করতেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ—উভয় কারণেই দলটির এই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এই ভাঙন কেজরিওয়ালের জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের স্বপ্নকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
এক ঝলকে
- রাঘব চাড্ডাসহ ৭ জন আপ সংসদ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
- রাজ্যসভায় আপের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একীভূত হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
- ইডি-র তদন্ত এবং অভ্যন্তরীণ নিগ্রহের অভিযোগ এই গণ-দলত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই ঘটনাকে পাঞ্জাবের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।