আপ ছেড়ে বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা! কিন্তু সাংসদ পদ কি থাকবে? প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ!

আপ ছেড়ে বিজেপিতে রাঘব চাড্ডা! কিন্তু সাংসদ পদ কি থাকবে? প্রশ্নের মুখে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ!

আম আদমি পার্টিতে বড় ধরনের ভাঙনের সুর দেখা দিয়েছে। দলের প্রভাবশালী নেতা রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তল বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। হরভজন সিং ও স্বাতী মালিওয়ালের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এই দলবদলের প্রক্রিয়ায় যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে। এই গণ-দলবদলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের রাজ্যসভা সদস্যপদ বজায় থাকবে নাকি তারা দলত্যাগ বিরোধী আইনের কবলে পড়ে সদস্যপদ হারাবেন, তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।

দলত্যাগ বিরোধী আইন ও বর্তমান সমীকরণ

ভারতীয় সংবিধানের দশম তফশিল অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত সাংসদ যদি স্বেচ্ছায় নিজ দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেন বা অন্য দলে যোগ দেন, তবে তার সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এই আইন থেকে বাঁচার একটি নির্দিষ্ট পথ রয়েছে, যাকে বলা হয় ‘একীভূতকরণ’ বা মার্জার। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬ শতাংশ) সদস্য যদি একত্রে অন্য দলে যোগ দেন, তবে তাদের ওপর দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর হয় না। রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির মোট ১০ জন সাংসদ রয়েছেন। ফলে আইনি জটিলতা এড়াতে রাঘব চাড্ডাদের কমপক্ষে ৭ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আইনি ভবিষ্যৎ

সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার থাকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপ-রাষ্ট্রপতির হাতে। অভিযোগ জমা পড়ার পর তিনি তদন্ত সাপেক্ষে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এই সিদ্ধান্তই শেষ কথা নয়; চেয়ারম্যানের রায়কে উচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। যদি সংখ্যাতত্ত্বে ঘাটতি থাকে এবং চেয়ারম্যান তাদের সদস্যপদ বাতিল করেন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনগুলো শূন্য হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ওই নেতাদের পুনরায় উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়ে আসতে হবে। এই রাজনৈতিক পালাবদল আপ-এর জাতীয় শক্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • রাঘব চাড্ডাসহ আম আদমি পার্টির একটি বড় অংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
  • রাজ্যসভায় আপ-এর ১০ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ৭ জনের সমর্থন থাকলে সদস্যপদ রক্ষা পাবে।
  • দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন না থাকলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সদস্যপদ খারিজ হতে পারে।
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং এটি বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার অধীন হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *