স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদান বাংলায়! কোনো বুথেই হবে না পুনর্নির্বাচন, বড় ঘোষণা কমিশনের

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় নজিরবিহীন গণতান্ত্রিক উৎসবের সাক্ষী থাকল রাজ্য। গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪৪,৩৭৬টি ভোটকেন্দ্রের একটিতেও পুনর্নির্বাচন বা ‘রিপোল’-এর প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিপুল জনজোয়ার সত্ত্বেও ভোট প্রক্রিয়া ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।
ভোটের হারে সর্বকালীন রেকর্ড
প্রথম দফার ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার ৯২.৮৮ শতাংশ, যা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। কমিশনের দাবি অনুযায়ী, ২০১১ সালের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ভোটারদের এই বিপুল উপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থার প্রতিফলন। শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, তামিলনাড়ুর ৭৫,০৬৪টি বুথেও কোনো পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন পড়েনি, যা সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হিংসামুক্ত নির্বাচনের দাবি
নির্বাচন কমিশনের মতে, ভয়মুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়েছে। যদিও কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তি এবং বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলার খবর সামনে এসেছে, তবুও সামগ্রিক ভোট প্রক্রিয়ায় তার বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই এই নজিরবিহীন ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার ৪৪,৩৭৬টি বুথের কোথাও নতুন করে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন নেই।
- ৯২.৮৮ শতাংশ ভোটদানের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ২০১১ সালের রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
- পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু দুই রাজ্যেই স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ ভোটদানের হার নথিবদ্ধ হয়েছে।
- কমিশন এই নির্বাচনকে ভয়মুক্ত ও হিংসামুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে।