‘শিকার করতে ময়দানে নেমেছেন মমতা!’ লোক কেনাবেচার অভিযোগে তৃণমূল নেত্রীকে নজিরবিহীন আক্রমণ অধীরের

‘শিকার করতে ময়দানে নেমেছেন মমতা!’ লোক কেনাবেচার অভিযোগে তৃণমূল নেত্রীকে নজিরবিহীন আক্রমণ অধীরের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘প্রার্থী শিকারের’ গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই পরাজয়ের আশঙ্কায় ভুগছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই কারণেই আইপ্যাককে (I-PAC) কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসের প্রার্থীদের নিজেদের শিবিরে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবির।

বিজেপি ও তৃণমূলের কৌশলে মিল

অধীর চৌধুরী সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, বিজেপি যেমন দেশজুড়ে বিরোধী নেতাদের প্রলুব্ধ করে দলবদল করায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বর্তমানে সেই একই ‘শিকারের রাজনীতি’ শুরু করেছেন। আপ নেতা রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন বুঝতে পেরেই তৃণমূল নেত্রী এখন কংগ্রেস ভাঙানোর খেলায় মেতেছেন। তাঁর মতে, রাজ্যে কংগ্রেসকে দুর্বল করে আদতে বিজেপিকেই পরোক্ষভাবে সুবিধা করে দিচ্ছে শাসক দল।

ভয়ের পরিবেশ ও আর্থিক অনিশ্চয়তা

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বহরমপুরের বিদায়ী সাংসদ দাবি করেন, সাধারণ মানুষের মনে গভীর অনিশ্চয়তা ও ভয় কাজ করছে। তৃণমূলের পক্ষে ভোট না দিলে সরকারি আর্থিক সাহায্য ও প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যাবে— এমন একটি আতঙ্ক সুকৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানের সরকারি সুবিধা হারানো এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতির দ্বন্দ্বে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মাঝপথে অধীর চৌধুরীর এই আক্রমণ দুই দলের তিক্ততা আরও বাড়িয়ে দিল। যদি তৃণমূল সত্যিই বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরাতে সফল হয়, তবে ভোটের সমীকরণ নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের এই কড়া অবস্থান তৃণমূলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

কংগ্রেসকে ধ্বংস করে তৃণমূল রাজ্যে বিজেপির হাত শক্ত করছে বলে মনে করছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।

পরাজয়ের ভয়ে তৃণমূল আইপ্যাকের মাধ্যমে কংগ্রেসের প্রার্থী কেনার চেষ্টা করছে বলে দাবি অধীর চৌধুরীর।

বিজেপি ও তৃণমূলের রাজনীতির ধরন একই এবং উভয় দলই ‘শিকারের রাজনীতি’ করছে বলে কটাক্ষ।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্প বন্ধের জুজু দেখানোর অভিযোগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *