“আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নয়, কথা বলতে চাইলে ফোন করুন!” পাকিস্তান সফর বাতিল করে ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

“আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট নয়, কথা বলতে চাইলে ফোন করুন!” পাকিস্তান সফর বাতিল করে ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ইরানকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর আকস্মিক বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের এই সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের দাবি, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার বিমান যাত্রায় সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আলোচনার সব নিয়ন্ত্রণ এখন আমেরিকার হাতে এবং ইরানিরা চাইলে সরাসরি ফোন করতে পারে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

সফর বাতিলের কারণ হিসেবে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিভ্রান্তিকে দায়ী করেছেন। তার মতে, তেহরানে বর্তমানে কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে আছেন তা নিয়ে খোদ তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সাথে বৈঠক শেষ করেছেন। মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই পরোক্ষ আলোচনার পরিকল্পনা থাকলেও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

অর্থনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা

বর্তমানে পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি চললেও জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতায় বিশ্ব অর্থনীতি চাপে রয়েছে। এর আগে প্রথম দফার আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। ইরান আমেরিকার ‘চরম দাবি’ মানতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ ও সাগরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক জলসীমা।

এক ঝলকে

  • সময় অপচয় ও ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দলের অজুহাতে মার্কিন প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • মার্কিন আলোচক দলে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা ছিল।
  • ওয়াশিংটনের দাবি আলোচনার সব নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে, তাই ইরানকে আলোচনার জন্য সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
  • জ্বালানি সংকট ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের আশঙ্কার মধ্যেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *