পায়ের ছাপ দেখে গুনে দিতেন শত্রুসেনার সংখ্যা! ১৯৭১-এর যুদ্ধে পাক সেনার যম ছিলেন এই গুজরাতি বৃদ্ধ

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশর নাম ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল থাকলেও, তার বিজয়ের নেপথ্যে ছিলেন এক নিঃশব্দ কারিগর—রণছোরদাস ‘পাগি’। মরুভূমির বালিতে পায়ের ছাপ দেখে শত্রুর সংখ্যা, অবস্থান এবং ওজন বলে দেওয়ার এক অদ্ভুত প্রাকৃতিক দক্ষতা ছিল এই সাধারণ মানুষের। অদম্য সাহসের কারণে মানেকশ তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘স্কাউট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং রণছোরদাসের জন্য তৈরি করেন বিশেষ ‘পাগি’ পদ।
দুর্ভেদ্য মরুভূমিতে দিশারি
১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করতে পাগির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে দুর্গম মরু এলাকা দিয়ে ভারতীয় সেনাদের নির্ধারিত সময়ের ১২ ঘণ্টা আগে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু পথ দেখানোই নয়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাকিস্তানি বাঙ্কারের নিখুঁত অবস্থান শনাক্ত করে ভারতীয় আর্টিলারিকে লক্ষ্যভেদে সহায়তা করেছিলেন এই অকুতোভয় যোদ্ধা। পাকিস্তানি বাহিনীর ১২০০ সেনার অবস্থান একা শনাক্ত করে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সমর বিশেষজ্ঞদের।
মানেকশর শেষ ইচ্ছা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান
ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশর সঙ্গে পাগির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। এমনকি তামিলনাড়ুর হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন মানেকশ বারবার এই সাধারণ মানুষটির নাম স্মরণ করেছিলেন। পাগির সম্মানে বনাসকাঁঠা সীমান্তে একটি বিএসএফ পোস্টের নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। ৩টি সামরিক পদক জয়ী এই বীর ১১২ বছর বয়সে ২০১৩ সালে পরলোকগমন করেন, যা ভারতীয় সামরিক ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটায়।
এক ঝলকে
- রণছোরদাস পাগি মরুভূমিতে পায়ের ছাপ দেখে শত্রুর গতিবিধি ও সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারতেন।
- ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে মরুভূমির কঠিন পথে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে জয়ে সহায়তা করেন।
- ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেকশ তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে নিজের পকেট থেকে ৩০০ টাকা পুরস্কার দিয়েছিলেন।
- ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের সুঁইগ্রাম বিএসএফ বর্ডার পোস্টটির নাম রাখা হয়েছে ‘রণছোরদাস পাগি পোস্ট’।