প্রয়াত ভারতের ‘ছবির জাদুকর’ রঘু রাই , অবসান এক স্বর্ণযুগের

ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের আনন্দ, বেদনা আর বৈচিত্র্যকে লেন্সবন্দি করা কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই। রবিবার দিল্লিতে ৮৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘ভারতীয় ফটোগ্রাফির জনক’ হিসেবে পরিচিত এই অনন্য শিল্পী। দীর্ঘদিনের প্রোস্টেট ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত জটিলতার কাছে হার মেনেছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে ভারতের দৃশ্যভাষার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান হলো।
ইতিহাসের সাক্ষী ও এক বিষাদসিন্ধু
বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁর যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে রঘু রাই ১৯৭৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ম্যাগনাম ফটোস’-এ। ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির সেই নিথর শিশুর ছবি হোক কিংবা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থীদের করুণ দশা—তাঁর প্রতিটি কাজ ছিল আধুনিক ইতিহাসের অমূল্য দলিল। ইন্দিরা গান্ধী থেকে মাদার টেরেসা, সবার জীবনকেই তিনি তাঁর ক্যামেরার নিজস্ব শৈলীতে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধের অসামান্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান।
শিল্পমহলে গভীর শোকের ছায়া
রাইয়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ জাতীয় রাজনীতি থেকে শিল্পকলা জগত। রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে লেখক বরুণ গ্রোভার বা ঐতিহাসিক উইলিয়াম ডালরিম্পল—সকলেই তাঁকে ভারতের আত্মার রূপকার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, রঘু রাই কেবল ছবি তুলতেন না, বরং তিনি সাধারণ মানুষকে পৃথিবী দেখতে শিখিয়েছেন। রবিবার বিকেলে দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে এই প্রথিতযশা শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা।
এক ঝলকে
- কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাই ৮৩ বছর বয়সে দিল্লিতে প্রয়াত হয়েছেন।
- ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের তাঁর তোলা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
- ১৯৭২ সালে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পদ্মশ্রী সম্মাননা পেয়েছিলেন।
- প্রোস্টেট ক্যানসার ও বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে তাঁর জীবনাবসান হয়েছে।