২৯ এপ্রিলের আগে ভারত ছাড়তে হবে অনুপ্রবেশকারীদের! মতুয়াগড়ে মোদির চরম হুঁশিয়ারি

২৯ এপ্রিলের আগে ভারত ছাড়তে হবে অনুপ্রবেশকারীদের! মতুয়াগড়ে মোদির চরম হুঁশিয়ারি

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মহারণের আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলেছে ‘ডেডলাইন’ বিতর্ক। মতুয়াগড় ঠাকুরনগরে এক নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জাল নথি বানিয়ে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, তাদের ২৯ এপ্রিলের মধ্যেই দেশ ছাড়তে হবে। অন্যথায় ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আলটিমেটাম দিয়েছেন তিনি।

শরণার্থীদের আশ্বাস ও কড়া বার্তা

মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের মনে আস্থা জোগাতে প্রধানমন্ত্রী জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তিনি পূর্ববঙ্গ থেকে আসা প্রকৃত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব ও স্থায়ী ঠিকানার বিষয়ে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন। এই লক্ষ্যেই সিএএ বিরোধিতার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন মোদি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একই সুরে সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের শুধুমাত্র ভোটার তালিকা নয়, বাংলা থেকেই চিরতরে বিতাড়িত করা হবে।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই আগ্রাসী অবস্থানের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি রাজ্যের শাসক দল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলা ভাষাভাষীদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে। মানুষ ব্যালট বাক্সেই এর যোগ্য জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে অনুপ্রবেশ ও সিএএ ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই তীব্র রাজনৈতিক তরজা এবং মেরুকরণের কৌশল আসন্ন দফার নির্বাচনগুলোতে গভীরভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।

এক ঝলকে

  • ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
  • ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
  • মতুয়া ও নমশূদ্রদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দেওয়ার পাশাপাশি সিএএ ইস্যুতে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর।
  • বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের ‘বাংলাদেশি’ অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ব্যালট বাক্সে জবাব দেওয়ার ডাক তৃণমূলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *