যুদ্ধের ক্ষত গভীর হচ্ছে ইরানে: ক্যান্সার ও হৃদরোগের ওষুধ অমিল, ধুঁকছে সাধারণ মানুষ!

সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের জেরে ইরানে জীবনদায়ী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় দেশটির প্রায় ২৫টি ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ক্যান্সার, হৃদরোগ, অ্যানেস্থেশিয়া এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো জটিল রোগের ওষুধ তৈরির কারখানাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতে এক অস্থির অবস্থা তৈরি হয়েছে। তেহরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউটের মতো গুরুত্বপূর্ণ টিকা উৎপাদন কেন্দ্রগুলোও এই তালিকার বাইরে নেই।
সংকটে সাধারণ জনজীবন ও স্বাস্থ্য খাত
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদরোগের জরুরি ওষুধগুলো এখন প্রায় দুষ্প্রাপ্য। তেহরানের স্থানীয় ফার্মাসিস্টদের মতে, যুদ্ধের সময় থেকেই ওষুধের সরবরাহ কম ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে যেমন ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে আকাশচুম্বী মূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। ফলে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও প্রতিকূলতা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার একটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা ওষুধের সহজলভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারছেন। ওষুধের অভাব মেটাতে ফার্মাসিস্টরা নিজেদের মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে একে অপরকে সহায়তা করছেন। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ঘাটতি এই প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে। উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর এই আক্রমণকে ইরান সরকার ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছে।
এক ঝলকে
- সামরিক হামলার ফলে ইরানের অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের মতো জটিল রোগের ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
- ওষুধের আকাশচুম্বী দাম এবং কাঁচামালের অভাবে সাধারণ রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
- সংকট সামলাতে সরকারি হেল্পলাইন এবং ফার্মাসিস্টদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক কাজ করছে।