বাংলাসহ ২১ রাজ্যে মৃত্যুর দোরগোড়ায় তাপপ্রবাহ! নজিরবিহীন কড়া নির্দেশ দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

দেশে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন (NHRC)। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ২১টি রাজ্য এবং দিল্লি প্রশাসনকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে থাকা অসহনীয় গরম ও প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে এই আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছে কমিশন।
ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতের তাগিদ
কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তীব্র দাবদাহে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ, দিনমজুর, শিশু এবং বয়স্কদের। বিশেষ করে যারা সরাসরি রোদে কাজ করেন কিংবা যাদের পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই, তাদের জীবন রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। রাজ্যগুলোকে তাদের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুহার কমাতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দেশে লু ও তাপপ্রবাহজনিত কারণে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অকাল মৃত্যু রোধে ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে তাপপ্রবাহের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও রাজ্যগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। জেলাস্তরে সাধারণ মানুষের জন্য পানীয় জল, ওআরএস এবং ছায়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ্যসচিবদের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।
এক ঝলকে
- তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গসহ ২১টি রাজ্য ও দিল্লিকে জরুরি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
- দিনমজুর, শিশু, বয়স্ক এবং গৃহহীনদের জীবন রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে প্রতিটি জেলাকে আগাম প্রস্তুতি ও রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে তাপপ্রবাহে ৩,৭১২ জনের মৃত্যু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন।