ফলাফল ঘোষণার আগে স্ট্রংরুম ঘিরে টানটান উত্তেজনা! এবার পাহারায় বিজেপির মহিলা ব্রিগেড

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহাগণনার ঠিক আগের মুহূর্তে রাজ্যের স্ট্রংরুমগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক পারদ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইভিএম কারচুপির একাধিক অভিযোগ এবং ধরনা কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে এবার বিশেষ রণকৌশল নিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। সোমবারের ফলাফল ঘোষণার আগে ইভিএমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রবিবার থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের বাইরে দলের মহিলা কর্মীদের অবস্থানে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের কৌশলে পাল্টা চাল বিজেপির
দ্বিতীয় দফার ভোট মেটার পর থেকেই কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল ও ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রংরুমগুলোতে শাসক দলের হেভিওয়েট নেতাদের অবস্থান দেখা গিয়েছে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েক ঘণ্টা স্ট্রংরুম পাহারার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। তৃণমূলের এই ‘পাহারা’ কৌশলের পাল্টায় বিজেপিও তাদের মহিলা মোর্চাকে ময়দানে নামাল। দলের নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকে গণনাকেন্দ্রে বিজেপির এজেন্ট ও প্রার্থীরা না আসা পর্যন্ত এই অবস্থান জারি থাকবে।
স্নায়ুর লড়াই ও কারচুপির আশঙ্কা
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গণনার দিনে শাসক দল বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এবং ইভিএমের সুরক্ষায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই এই ‘মহিলা ব্রিগেড’ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই প্রধান শিবিরের এই তৎপরতা আদতে ভোটারদের মধ্যে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণের এক স্নায়ুর লড়াই। তৃণমূল যেখানে কারচুপির অভিযোগ তুলে কর্মীদের কাউন্টিং হল না ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, বিজেপিও তেমনই গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।
গণনা কেন্দ্রের কড়া নিরাপত্তা
রাজ্যজুড়ে স্ট্রংরুমগুলোকে ঘিরে বর্তমানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি সিসিটিভি নজরদারিও চলছে। তবে প্রশাসনিক নজরদারির বাইরেও রাজনৈতিক দলগুলোর এই ‘অঘোষিত পাহারা’ গণনার আগে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার মতো এলাকাগুলোতে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের অবস্থান কর্মসূচির ফলে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসনকে।