“সাহস থাকলে দিল্লির গডফাদারকে পাঠান”, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঘোষণায় কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে। ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল করে আগামী ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথেই নতুন করে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই নির্দেশ আসার পরেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিজেপির কটাক্ষ ও অভিষেকের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের পর বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “ডায়মন্ড হারবার মডেল ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।” এর পাল্টা জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় লেখেন, “১০টা জীবন পার হয়ে গেলেও আপনাদের এই বাংলা-বিরোধী ‘গুজরাটি গ্যাং’ এবং তাদের অনুগত জ্ঞানেশ কুমাররা (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার) আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে একটা আঁচড়ও কাটতে পারবে না।”
সরাসরি দিল্লিকে চ্যালেঞ্জ
অভিষেক তাঁর পোস্টে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে লেখেন, “আপনাদের যা শক্তি আছে, সব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। আমি গোটা ভারত সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি ফলতায় আসুন। আপনাদের ক্ষমতা থাকলে দিল্লির কোনও ‘গডফাদার’কে এখানে লড়তে পাঠান। যদি সাহস থাকে, তবে ফলতায় এসে লড়াই করে দেখান।” রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের এই ‘গডফাদার’ মন্তব্য সরাসরি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এক বড়সড় উস্কানি।
ফলতার লড়াই এখন ‘প্রেস্টিজ ফাইট’
ফলতায় তৃণমূলের জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। ইভিএমে কারচুপি, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিকৃতির মতো গুরুতর অভিযোগে কমিশন এখানে ভোট বাতিল করেছে। অমিত মালব্য অভিযোগ করেছেন যে, দ্বিতীয় দফার ভোটে বহু বুথে তৃণমূল ভোটারদের বাধা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ফলাফল প্রকাশিত হবে, কিন্তু ফলতার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৪ মে পর্যন্ত। অভিষেকের এই খোলা চ্যালেঞ্জের পর ২১ মে-র পুনর্নির্বাচন এখন তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষের কাছেই মান-সম্মানের লড়াই বা ‘প্রেস্টিজ ফাইট’-এ পরিণত হয়েছে। এখন দেখার, দিল্লির ‘গডফাদার’রা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন কি না।