স্ত্রীর হাতেই ‘মারধর ও মানসিক নির্যাতন’র শিকার স্বামী! আলিপুর আদালতে মিলল জামিন

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা এবং ভ্রূণ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগে শ্রীঘরে যেতে হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের বাসিন্দা শুভম শর্মাকে। তবে আলিপুর দায়রা আদালতে মামলার শুনানিতে মোড় ঘুরল নাটকীয়ভাবে। বিচারক বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে প্রমাণিত হলো, স্বামী অপরাধী নন, বরং তিনি নিজেই স্ত্রীর হাতে দীর্ঘকাল ‘গার্হস্থ্য হিংসা’র শিকার হয়েছেন। ৫ হাজার টাকার দুই জামিনদারের শর্তে শুভমকে জামিন দিয়েছে আদালত।
ঘটনার নেপথ্যে:
পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী শুভম শর্মার সঙ্গে কলকাতার নেতাজিনগরের প্রগতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিয়ে হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। বৈবাহিক সাইটে সাত বছরের পরিচয়ের পর এই পরিণয়। বিয়ের পর দুজনেই বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। কিন্তু নভেম্বরে প্রগতি বাপের বাড়িতে ফিরে স্বামীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, মারধর এবং জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ এনে নেতাজিনগর থানায় মামলা রুজু করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুভমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আদালতে পেশ করা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
শুভমের আইনজীবী রাজেশ ক্ষেত্রী আদালতে ভিডিও ফুটেজ ও দালিলিক প্রমাণ পেশ করে দাবি করেন যে, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। উল্টে দেখা যায়:
- শারীরিক অত্যাচার: শুভম নিজেই স্ত্রীর হাতে নিগৃহীত হতেন। এমনকি কোমরের বেল্ট দিয়েও তাঁকে মারধর করা হতো বলে আদালতে তথ্য পেশ করা হয়।
- অশান্তির কারণ: অফিস থেকে ফেরার পর শুভম ল্যাপটপে কাজ করায় প্রগতি ক্ষুব্ধ হতেন এবং সেখান থেকেই অশান্তির সূত্রপাত।
- প্রমাণের অভাব: ভ্রূণ নষ্ট করার স্বপক্ষে অভিযোগকারিণী কোনো উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর এবং মামলার কেস ডায়েরি খতিয়ে দেখে বিচারক বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুভমের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত মনে করে, অভিযোগকারিণীর দাবিগুলোর তুলনায় স্বামীর ওপর হওয়া নির্যাতনের সপক্ষে পেশ করা তথ্যগুলো যথেষ্ট জোরালো। ফলে কারাবন্দি শুভম শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে স্বস্তি পেলেন।