রেকর্ড ভোটদান না কি প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া? সোমবার কার দখলে যাচ্ছে বাংলার মসনদ!

একুশের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের পর এবার চাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও যবনিকা পড়ার পালা। সোমবার সকাল থেকে শুরু হচ্ছে ভোটগণনা। এবারের নির্বাচনে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে একের পর এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। কোনো প্রাণহানি ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া থেকে শুরু করে ৯২ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটদান— সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে এক বড়সড় পরিবর্তনের অথবা অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনের। দুই শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে কাল স্পষ্ট হবে কার মাথায় উঠছে জয়ের মুকুট।
ভোটের ময়দানে বড় ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ ও রেকর্ড ভোটদান
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হলো বিপুল ভোটদান। ২০১১ বা ২০২১-এর পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে এবার ভোট পড়েছে ৯২ শতাংশের বেশি। বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি ফিরে ভোটদান এবং বুথস্তরে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই পরিসংখ্যানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) তালিকা থেকে ২৭ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা এবং তা নিয়ে তৈরি হওয়া জনরোষ এবারের নির্বাচনের অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তৃণমূলের শক্তি বনাম বিজেপির হাতিয়ার
শাসক দল তৃণমূলের প্রধান ভরসা হলো বুথস্তরের শক্তিশালী সংগঠন এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’র মতো জনমুখী প্রকল্পগুলোর ব্যাপক জনপ্রিয়তা। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের বড় একটি অংশ তৃণমূলের একনিষ্ঠ ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, বিজেপি মূলত ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং আরজি কর ও নারী নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে পুঁজি করে লড়াইয়ে নেমেছে। চাকরি বাতিল ও নিয়োগ দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ক্ষোভকে বিজেপির দিকে চালিত করতে পারে। এছাড়া ফসলের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় আলু চাষিদের মধ্যে থাকা অসন্তোষও বিজেপির জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
তৃতীয় শক্তি ও জনবিন্যাসের সমীকরণ
তৃণমূল-বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট কতটা ভোট কাটতে পারে, তার ওপর অনেক আসনের হার-জিৎ নির্ভর করছে। জনবিন্যাসের ক্ষেত্রেও দুই দফার ভোটে বিস্তর ফারাক লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম দফায় গ্রামীণ ও মুসলিম ভোটারের প্রভাব বেশি থাকলেও দ্বিতীয় দফায় শহুরে ভোটারদের প্রাধান্য বেশি। এই বিভাজন কার পালে হাওয়া কাড়বে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে ছাব্বিশের এই নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক অস্তিত্বের লড়াই নয়, বরং বাংলার আগামী পাঁচ বছরের গতিপথ নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।