‘সরকার না গড়লেও উল্লেখযোগ্য আসন নিয়ে ফিরবে বামেরা’, ভোটের ফল নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী মানসী সিনহার

আগামীকাল ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল। গোটা রাজ্য যখন স্নায়ুচাপে ভুগছে এবং ঘাসফুল বনাম পদ্ম শিবিরের লড়াই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে, ঠিক তখনই বামেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী তথা পরিচালক মানসী সিনহা। তাঁর মতে, এবার হয়তো বামপন্থীরা সরকার গঠন করতে পারবে না, কিন্তু উল্লেখযোগ্য কিছু আসনে জয়লাভ করে তারা ফের শক্তিশালী ভাবে লড়াইয়ে ফিরতে পারে।
প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত?
মানসী সিনহা মনে করেন, গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক বিপর্যয় ও লাগাতার নির্বাচনী ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার এক নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এই নির্বাচনে। তাঁর বিশ্বাস, এবারের ভোটে বাম শিবির যে পরিমাণ ভোট বা আসন পেতে পারে, তা তাদের দীর্ঘদিনের ‘রাজনৈতিক ধাক্কা’ সামলে ওঠার জন্য অন্যতম বড় অক্সিজেন হিসেবে কাজ করবে। অভিনেত্রীর কথায়, এই নির্বাচনটি আদতে বামেদের মূল ধারার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের একটি শক্তিশালী সূচনা হতে চলেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের আসন সংখ্যা শূন্যে ঠেকেছিল। তারপর থেকে একাধিক উপনির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে বামেদের ভোট শতাংশ কিছুটা বাড়লেও আসন প্রাপ্তি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মানসী সিনহার এই অনুমান যদি মিলে যায়, তবে তা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে নতুন মোড় আনবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এবং গ্রামবাংলার কিছু পকেটে বামেদের হারানো জমি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, মানসীর মন্তব্য তাকেই উসকে দিল।
অপেক্ষা ৪ মে-র
মানসী সিনহার এই ব্যক্তিগত বিশ্বাস কি বাস্তবের ইভিএম-এ প্রতিফলিত হবে? নাকি রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্য কোনও মেরুকরণের দিকে যাবে? সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামীকাল ৪ মে। গণনা কেন্দ্রের টেবিলগুলোতে যখন ব্যালট ও ইভিএম-এর হিসেব নিকেশ শুরু হবে, তখনই স্পষ্ট হবে কার ভবিষ্যদ্বাণী মিলল আর কার অঙ্ক ভুল প্রমাণিত হল।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।