ভোটগণনার আগে সর্বোচ্চ সতর্কতায় তৃণমূল, এজেন্টদের জন্য মমতা-অভিষেকের কড়া নির্দেশিকা

বাংলার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশ্যে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইভিএম কারচুপি, হ্যাকিং বা তথ্য জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করে কর্মীদের কার্যত ‘যুদ্ধকালীন তৎপরতায়’ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এজেন্টদের জন্য বিশেষ ‘ডু’জ অ্যান্ড ডোন্টস’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজেন্টদের ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর সবথেকে বিতর্কিত ও সতর্কতামূলক বার্তা ছিল খাবার নিয়ে; তিনি বলেন, “বাইরের খাবার নেবেন না, কেউ কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।” এছাড়া, ইভিএমের ব্যাটারি চার্জ যদি ৭০ শতাংশের আশেপাশে থাকে, তবে তৎক্ষণাৎ ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি জানাতে বলা হয়েছে। নেত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “যদি দেখেন ২০০-৩০০ ভোটে বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেখানে পুনর্গণনা করতে বলবেন।” তথ্য নথিভুক্ত করার সময় ‘বিজেপি মানসিকতার’ ডেটা অপারেটররা জালিয়াতি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সার্টিফিকেট নিয়ে সতর্কতা
গণনা চলাকালীন লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অন্ধকারেও অনেক মেশিন পাল্টে দেওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, জয়ের শংসাপত্র বা ‘সার্টিফিকেট’ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো এজেন্ট যেন টেবিল ছেড়ে না ওঠেন। যদি কোনো এজেন্টকে বসতে বাধা দেওয়া হয়, তবে সরাসরি প্রার্থীকে সেখানে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের লক্ষ্য ও প্রস্তুতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, তৃণমূল এবার ২০০-র বেশি আসনে জয়ী হবে। এই জয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় অভিজ্ঞ সাংসদ ও মন্ত্রীদের ‘কাউন্টিং অবজার্ভার’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। মূলত গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্নায়ুর লড়াইয়ে টিকে থাকতে এবং সম্ভাব্য ‘ভোটলুট’ রুখতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যে কতটা মরিয়া, তা এই কড়া নির্দেশিকা থেকেই স্পষ্ট। এখন কাল সকালের শুরু হওয়া গণনায় এই নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।