সোনার বাংলায় নতুন ভোর, ঐতিহাসিক জয়ের পর কর্মীদের কুর্নিশ ও রাজ্যবাসীকে প্রণাম জানালেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৈরি হলো এক নতুন অধ্যায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও, ছাব্বিশের মহারণে অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখল ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের দাপটে ঘাসফুল শিবিরের পতন ঘটিয়ে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পথে বিজেপি। এই ঐতিহাসিক জয়ের পর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। লড়াকু কর্মীদের রক্ত-ঘাম ঝরানো পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানানোর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়েছেন তিনি।
নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও পরিবর্তনের জয়
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বার্তায় এই জয়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি বাংলার মানুষের অটল আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন, বঙ্গ-বিজয় সেই লক্ষ্যপূরণে সহায়ক হবে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশকে প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের ধারা ও অগ্রগতিকে বেছে নিয়েছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার যে প্রতিজ্ঞা তিনি করেছিলেন, এই জনাদেশ তাকেই সার্থকতা দিল।
সাফল্যের নেপথ্যে লড়াকু কারিগর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একুশের নির্বাচনে ৭৭টি আসনে থমকে যাওয়া বিজেপি কীভাবে ছাব্বিশে ম্যাজিক ফিগার ছাড়িয়ে গেল, তার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান কারিগর শুভেন্দু অধিকারী। ২০২০ সালে তৃণমূল ত্যাগ করার পর থেকে রাজ্যজুড়ে তাঁর লাগাতার জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক তৎপরতা দলকে এই বিশাল সাফল্য এনে দিয়েছে। বিশেষ করে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। এই জয়ের ফলে কাঁথির ‘শান্তিকুঞ্জে’র মেজপুত্রের রাজনৈতিক ওজন ও দক্ষতা দলের অন্দরে এবং রাজ্য রাজনীতিতে আরও দৃঢ় হলো। এখন লক্ষ্য, নির্বাচনের এই প্রতিশ্রুতি মেনে বাংলাকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা।