ফাইল সরালেই কঠোর শাস্তি, ভোটের ফলের দিনই নজিরবিহীন নির্দেশিকা মুখ্যসচিবের!

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ এবং গণনার ডামাডোলের মধ্যেই সোমবার নবান্নের অন্দরে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কোনো সরকারি দফতর থেকে যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ফাইল সরানো অথবা নষ্ট করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুশ্যন্ত নারিয়াল। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ‘হাই-অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
নথি রক্ষায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি
মুখ্যসচিবের সই করা এই বিশেষ নির্দেশিকায় (মেমো নম্বর- ৯৫-CS/২০২৬) স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রতিটি সরকারি দফতরের বিভাগীয় সচিব ও প্রধানদের তাঁদের অধীনে থাকা নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্দেশিকায় কেবল ফাইল সরানো নয়, বরং তা নষ্ট করা কিংবা অনুমতি ছাড়া স্ক্যান ও ফটোকপি করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। প্রতিটি নথির সঠিক হিসাব রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের কাগজপত্রের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও কড়া ব্যবস্থা
এবারের নির্দেশিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ পালনে সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান বা সচিবকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্য়েই এই নির্দেশের প্রতিলিপি অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং জেলাশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিষয়টি জানানো হয়েছে রাজ্যপালের সচিবকেও।
প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
গণনা চলাকালীন যখন রাজনৈতিক পালাবদলের জল্পনা তুঙ্গে, তখন এই ধরনের নির্দেশিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার পরিবর্তনের আবহে সরকারি তথ্য বা প্রমাণের অপব্যবহার রুখতেই এই আগাম সতর্কতা। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাতে কোনো বিশেষ মহলের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয় বা গায়েব না করে দেওয়া হয়, তার জন্য এই ‘ফাইল সুরক্ষা’ কবচ তৈরি করল প্রশাসন। এর ফলে নির্বাচনের ফল পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কাজের ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।