৯ জেলায় শূন্য মমতা আর জঙ্গলমহলে গেরুয়া ঝড়, বঙ্গ রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদল!

৯ জেলায় শূন্য মমতা আর জঙ্গলমহলে গেরুয়া ঝড়, বঙ্গ রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদল!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে রাজ্যে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘ দেড় দশকের আধিপত্য কাটিয়ে ঘাসফুল শিবিরের দুর্গ কার্যত ধূলিসাৎ করে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। উচ্চবর্ণ থেকে মতুয়া, নমঃশূদ্র থেকে আদিবাসী— সব স্তরের মানুষের জনসমর্থন এবার ঝুঁকেছে গেরুয়া শিবিরের দিকে। এই নির্বাচনে সবথেকে বড় চমক ৯টি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পূর্ণ আসনহীন হয়ে পড়া, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তৃণমূলের গড় রক্ষা ও বিপর্যয়ের চিত্র

এক সময়ের অপ্রতিরোধ্য তৃণমূল কংগ্রেস এবার উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে কার্যত দিশেহারা। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম— এই ৯টি জেলায় মমতার দল একটি আসনও জিততে পারেনি। এমনকি কলকাতার মতো খাসতালুকেও এবার বিজেপি অধিক সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে আধিপত্য বিস্তার করেছে। হাওড়া, হুগলি এবং বীরভূমের মতো শক্ত ঘাঁটিতেও ফাটল ধরেছে প্রবলভাবে। উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৪১টি দখল করে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে, যেখানে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারাও পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছেন।

জঙ্গলমহলে সাফ জোড়াফুল ও পরিবর্তনের নেপথ্য কারণ

গত বিধানসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে তৃণমূল যে সাফল্য পেয়েছিল, এবার তা পুরোপুরি উল্টে গিয়েছে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের সমস্ত আসন জিতে নিয়ে জঙ্গলমহলকে ‘তৃণমূল মুক্ত’ করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদিবাসী ভোট ব্যাংক এবং গ্রামীণ মানুষের অসন্তোষ এই অভাবনীয় ফলের নেপথ্যে বড় কাজ করেছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে হুমায়ন কবীরের মতো নির্দল প্রার্থীদের উত্থান এবং মালদহে ভোট শতাংশের ব্যাপক হ্রাস তৃণমূলের জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই নির্বাচনী ফলাফল আগামী দিনে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। একদিকে যেমন বিরোধী শূন্য হওয়ার উপক্রম হয়েছে একাধিক জেলায়, অন্যদিকে বিজেপির এই বিপুল উত্থান রাজ্যের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগণা বা নদিয়াতেও যেভাবে বিজেপি থাবা বসিয়েছে, তা আগামী দিনের পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনে শাসক দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *