ক্যাম্পাস এখন রণক্ষেত্র ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনের ওপর হামলার অভিযোগ এবিভিপির বিরুদ্ধে

কলকাতা ৬ মে, ২০২৬। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহ তৈরি হতেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলেজ ক্যাম্পাসগুলো। মঙ্গলবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এবিভিপি এবং ডিএসও (DSO) সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার সূত্রপাত ও অভিযোগ
ডিএসও-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এবিভিপি কর্মীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে তাদের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে দেয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে এক ছাত্রের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মারধর করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বাম ছাত্র সংগঠনটির। তাদের অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপির জয়ের খবর আসতেই গেরুয়া ছাত্র সংগঠনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গায়ের জোর দেখাতে শুরু করেছে।
এবিভিপির পালটা দাবি
অন্যদিকে, এবিভিপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভেতর কিছু ছাত্র দেশবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। সেই স্লোগানের প্রতিবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তাদের অভিযোগ, বামপন্থী সংগঠনগুলো হার নিশ্চিত জেনে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে।
ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা
কেবল কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস নয়, উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ এবং আশুতোষ কলেজেও। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টির খবর পাওয়া গিয়েছে। সংঘর্ষে আহত ছাত্রদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রতিটি ক্যাম্পাসে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনে অস্বস্তি
দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসগুলোতে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের আধিপত্য থাকলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। বাম ও গেরুয়া শিবিরের এই সরাসরি সংঘাত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পরিবেশে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও নতুন করে অশান্তির আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।