শাহজাহানের গড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ খোদ থানার ওসি!

বসিরহাটের ন্যাজাটে তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়ল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ি এলাকায় দুই পক্ষের রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েতসহ পাঁচজন। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরদিনই এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘিরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে একসময়ের ‘শাহজাহানের গড়’ হিসেবে পরিচিত এই জনপদে।
রণক্ষেত্র রাজবাড়ি ও পুলিশের ওপর হামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে রাজবাড়ি এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বিবাদ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ব্যাপক বোমাবাজি ও গুলির লড়াই। খবর পেয়ে ন্যাজাট থানার ওসি ভরত প্রসূন পুরকায়েতের নেতৃত্বে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযোগ, উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে ওসির হাতে গুলি লাগে। এছাড়া রাজবাড়ি ফাঁড়ির কর্মী ভাস্বত গোস্বামী, একজন মহিলা কনস্টেবল এবং দুজন সিআরপিএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের প্রথমে স্থানীয় মিনাখাঁ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে করা হচ্ছে, ৪ জুনের নির্বাচনী ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলটি তৃণমূলের শক্তিশালী দুর্গ এবং শেখ শাহজাহানের প্রভাব বলয়ে থাকায় এখানে রাজনৈতিক মেরুকরণ অত্যন্ত তীব্র। সংঘর্ষের পর থেকেই এলাকা থমথমে। বুধবার ভোর থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় রুট মার্চ করছে। তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর গুলির খোল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে স্থানীয় প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।