টলিউডে আর কেউ ব্যান হবে না! দলের হারে কষ্ট পেলেও রাজ্যে বদলকে স্বাগত জানালেন দেব

রাজ্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় দলের অনেক নেতা-কর্মীকে হতাশ করলেও, সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল দলেরই সাংসদ তথা সুপারস্টার দেবের গলায়। দলের এই বিপর্যয়ে তিনি কষ্ট পেলেও, টলিউডের সার্বিক উন্নতির স্বার্থে রাজ্যে এই রাজনৈতিক বদলকে তিনি খোলা মনে স্বাগত জানিয়েছেন। দেবের এই অপ্রত্যাশিত মন্তব্য বর্তমানে রাজ্য রাজনীতি এবং বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সিনেমার দুনিয়ায় সিন্ডিকেট রাজের অবসান ও নতুন আশা
দেবের মতে, এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অচলাবস্থা এবং প্রভাবশালীদের খবরদারির অবসান ঘটতে চলেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এবার থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে নিজের মর্জিমাফিক ‘ব্যান’ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে না। প্রযোজকদের ওপর অযৌক্তিক নিয়মের বোঝাও চাপানো হবে না। এর ফলে ইন্ডাস্ট্রিতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার পরিবেশ ফিরে আসবে, কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং বাইরের রাজ্য থেকেও নতুন কাজের সুযোগ আসবে। শাসক দলের একাংশের বিরুদ্ধে টলিউডে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ চালানোর যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, দেবের এই মন্তব্য তাকেই পরোক্ষে মান্যতা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন সরকারের প্রতি আর্জি ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিজয়ী দল বিজেপির কাছেও বিশেষ আর্জি রেখেছেন এই অভিনেতা-সাংসদ। তিনি জানিয়েছেন, নতুন সরকার যদি টলিউডকে সঠিকভাবে বুঝে তার পাশে এসে দাঁড়ায়, তবে বাংলা ছবির দুনিয়া এক নতুন জীবন পাবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যাতে বিগত সরকারের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি নতুন সরকারের আমলে না ঘটে। দেবের এই অবস্থান প্রমাণ করছে যে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে টলিউডের শিল্পীরা এখন একটি স্বাধীন ও সুস্থ কর্মপরিবেশ চাইছেন। এই পালাবদল আগামি দিনে বাংলা সিনেমা জগতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে পেশাদারিত্ব এবং সৃজনশীলতার নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।