ভোটের ফলপ্রকাশের উত্তাপে রণক্ষেত্র শ্রীরামপুর, পুলিশকে মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর

শ্রীরামপুরের রাজনীতির অলিন্দে উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটের ফলপ্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ পুলিশের নাকে ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠল শ্রীরামপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রাজেশ শাহ ওরফে কুকুয়ার বিরুদ্ধে। বুধবার টিন বাজার এলাকায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হওয়া এই বিবাদের জেরে শেষ পর্যন্ত শ্রীরামপুর আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের তালা খোলাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে বচসা শুরু হয় রাজেশ শাহের। পুলিশের দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কাউন্সিলর বাধা প্রদান করেন এবং বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে এএসআই নটরাজকে লক্ষ্য করে সজোরে ঘুষি চালান। এতে ওই পুলিশকর্মীর নাক ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে রাজেশ ও তাঁর দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে।
পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক তরজা
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কাউন্সিলর। আদালতের পথে যাওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের একটি কেন্দ্র দখল করতে চেয়েছিল বিরোধীরা। সেটি রুখতে গিয়েই সমস্যার সৃষ্টি। তাঁর দাবি, নির্বাচনে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস ভালো ফল করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ভাস্কর ভট্টাচার্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হওয়াই কাম্য। এই ঘটনার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নাকি নিছকই প্রশাসনিক সংঘাত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।