‘কালীঘাটে ঝালমুড়ি খাওয়া ছাড়া কাজ নেই’, ইস্তফা বিতর্কে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপের

‘কালীঘাটে ঝালমুড়ি খাওয়া ছাড়া কাজ নেই’, ইস্তফা বিতর্কে মমতাকে তীব্র কটাক্ষ দিলীপের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়া এবং রাজ্যপাল কর্তৃক বিধানসভা ভেঙে দেওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে বিতর্ক। এই আবহে শুক্রবার সকালে প্রথাগত ঢঙেই প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

দিলীপ ঘোষের তোপ

রাজ্যপাল আরএন রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত ‘প্রাক্তন’ হয়ে গেলেও সমাজমাধ্যমে এখনও নিজের পরিচয় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেই রেখে দিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন:

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বিধানসভাতে বসার যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলেছেন। এখন কালীঘাটে বসে ঝালমুড়ি খাওয়া ছাড়া আর কোনও কাজ নেই তাঁর।”

তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল সুপ্রিমো বর্তমানে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। দিলীপের কথায়, “লোকজন এসে তাঁকে ভুল বোঝাচ্ছে, মাথায় মিথ্যা আশা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। যখন তিনি আকাশ থেকে মাটিতে পড়বেন, তখন এমন চোট পাবেন যা আর কোনওদিন সারবে না।”

অভূতপূর্ব সাংবিধানিক পরিস্থিতি

সাধারণত নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার গঠন পর্যন্ত ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব সামলান। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি ইস্তফা দেবেন না, বরং তাঁকে ‘বরখাস্ত’ করা হোক। বিজেপির ২০৭ আসন জয়কে ‘ভোট চুরি’ আখ্যা দিয়ে তিনি আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

রাজ্যপালের পদক্ষেপ ও আগামীর প্রস্তুতি

মমতা ইস্তফা না দিলেও সংবিধানের ১৭২ (২) (বি) ধারা প্রয়োগ করে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতেই বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল। এর ফলে মমতাসহ তাঁর মন্ত্রিসভা আইনিভাবে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

আগামীকাল, শনিবার (৯ মে, ২৫ বৈশাখ) ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে শপথ নিতে চলেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার। এই মেগা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

প্রতিবেদক— বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *