গর্ভবতী সেজেও রক্ষা নেই! ২৭ দিন পর গ্রেফতার TCS-এর সেই নিদা খান, আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগের সন্দেহ তদন্তকারীদের

মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস (টিসিএস) কার্যালয়ের চাঞ্চল্যকর ধর্মান্তর ও যৌন শোষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত নিদা খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ২৭ দিন পলাতক থাকার পর ছত্রপতি সম্ভাজিনগর থেকে তাকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এআইএমআইএম (AIMIM) দলের এক কাউন্সিলর মতিন প্যাটেল তাকে লুকিয়ে থাকতে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। নিদাকে বর্তমানে ১১ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং তার সাথে সন্ত্রাসী সংগঠনের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এনআইএ (NIA) ও রাজ্য এটিএস তদন্ত শুরু করেছে।
ধর্মীয় চাপ ও আন্তর্জাতিক সংযোগের অভিযোগ
অভিযুক্ত নিদা খানের বিরুদ্ধে নাসিক টিসিএস অফিসে কর্মরত নারীদের ওপর হিজাব পরা এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নারীদের মগজধোলাই করার জন্য তিনি মোবাইলে বিশেষ অ্যাপ এবং ইউটিউব লিঙ্ক পাঠাতেন বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নিদা মালয়েশিয়ার ‘ইমরান’ নামক এক ব্যক্তির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং নারীদের বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা করছিলেন। তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন এবং অর্থের উৎস এখন গোয়েন্দাদের প্রধান নজরে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও প্রশাসনিক তৎপরতা
নিদা খানের গ্রেফতারির পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের মন্ত্রী সঞ্জয় শিরসাট দাবি করেছেন যে, সাবেক এমপি ইমতিয়াজ জলিল অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে জানতেন। এদিকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ স্পষ্ট জানিয়েছেন, একজন কাউন্সিলর যেভাবে অভিযুক্তকে আশ্রয় দিয়েছেন, তার পেছনের মূল চক্রকে খুঁজে বের করা হবে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলকেও এই মামলায় সহ-অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এক ঝলকে
- টিসিএস ধর্মান্তর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নিদা খানসহ মোট আটজন গ্রেফতার।
- অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে এআইএমআইএম কাউন্সিলর মতিন প্যাটেলের বিরুদ্ধে মামলা।
- মালয়েশিয়া সংযোগ এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার সন্দেহে এনআইএ তদন্ত শুরু।
- ১১ মে পর্যন্ত নিদা খানকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ আদালতের।