আরএসএস প্রচারক থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক রূপকথা

আরএসএস প্রচারক থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক রূপকথা

বাংলার রাজনীতির রুক্ষ জমিতে পদ্ম ফোটানোর কারিগর হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক জীবন এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল। ব্রিগেডের মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেলেন। ১৯৮৪ সালে আরএসএস প্রচারক হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই নেতা আজ বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে তাঁর আগ্রাসী নেতৃত্বই বিজেপিকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিয়েছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শূন্য থেকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার রূপকার

এক দশকের ব্যবধানে বিজেপির এই অবিশ্বাস্য উত্থানের নেপথ্যে দিলীপ ঘোষকে অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত যেখানে বিধানসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল শূন্য, সেখান থেকে ২০২৬ সালে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন দলের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ২০১৬ সালে খড়গপুর সদর থেকে জিতে আসার পর ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন জয়ের রেকর্ড তাঁর নেতৃত্বেই তৈরি হয়েছিল। মাঝপথে নির্বাচনী ধাক্কা সামলে ২০২৬-এর নির্বাচনে ফের খড়গপুর সদর থেকেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করেছেন।

সংগঠন ও সম্পদ এক নজরে

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, নিজেকে ‘দলের পূর্ণসময়ের কর্মী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই নেতার বর্তমান বার্ষিক আয় ২০.১ লক্ষ টাকা এবং মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩.১ কোটি টাকা। কোনো ব্যক্তিগত ঋণ না থাকলেও তাঁর নামে ২৮টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। মূলত উত্তরবঙ্গ এবং আদিবাসী বেল্টে দলের সংগঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে তাঁর অনমনীয় মনোভাব বিজেপিকে গ্রাম বাংলার কোণায় কোণায় পৌঁছে দিয়েছে। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থভাজন হিসেবে পরিচিত এই নেতার মন্ত্রিত্ব লাভের মাধ্যমে রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পথ আরও প্রশস্ত হলো।

এক ঝলকে

  • ১৯৮৪ সালে আরএসএস প্রচারক হিসেবে জীবন শুরু করে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।
  • ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে বিধানসভায় প্রত্যাবর্তন করেছেন।
  • তাঁর নেতৃত্বাধীন সময়েই ২০১৬ সালে ৩টি আসন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালে বিজেপি ২০৭টি আসনে পৌঁছে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল।
  • ৩.১ কোটি টাকার ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিক দিলীপ ঘোষের নামে ২৮টি ফৌজদারি মামলা থাকলেও তিনি কোনো ঋণের জালে নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *