৬০ কিমি বেগে আছড়ে পড়বে কালবৈশাখী, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি তীব্র সতর্কতা

মে মাসের শুরুতেই বাংলার আবহাওয়ায় আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিরাচরিত গ্রীষ্মের দাবদাহের বদলে রাজ্যজুড়ে দাপট দেখাচ্ছে কালো মেঘ আর ঝোড়ো বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে পশ্চিমের জেলাগুলোতে শক্তিশালী কালবৈশাখী আছড়ে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ছয় জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই জেলাগুলিতে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বা কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রকৃতির এই খামখেয়ালি আচরণের কারণ
আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে, যা কালবৈশাখীর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি আগামী ১০ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
তীব্র প্রভাব ও জনজীবন
এই অকাল ঝড়বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী হলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলোতেও দফায় দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের সময় সাধারণ মানুষকে খোলা মাঠ বা গাছের নিচে আশ্রয় না নিয়ে নিরাপদ পাকা বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। ঝোড়ো হাওয়ায় কাঁচা বাড়ি বা ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এক ঝলকে
- দক্ষিণবঙ্গের ৬টি জেলায় ৬০ কিমি বেগে কালবৈশাখীর সতর্কতা।
- ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর ও বর্ধমানসহ একাধিক জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি।
- ১০ মে পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস।
- ঘূর্ণাবর্ত ও জলীয় বাষ্পের জোড়া প্রভাবে এই আবহাওয়া বদল।