প্রতিজ্ঞা পূরণ! শুভেন্দুর শপথের দিনই দীর্ঘ ৫ বছর পর দাড়ি-গোঁফ কামালেন বিজেপি নেতা কাজল
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/09/suvendu-adhikari-oath-ceremony-2026-05-09-21-04-44.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
রাজ্যে পালাবদল ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের দিনেই এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো মালদায়। তৃণমূল আমলের দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক সংঘাত ও ব্যক্তিগত লাঞ্ছনার প্রতিবাদে যারা ঘরছাড়া বা ভিন্ন জীবন যাপনে বাধ্য হয়েছিলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই তারা ফিরছেন স্বাভাবিক ছন্দে। বিশেষ করে নজর কেড়েছে মালদার ইংরেজবাজারের বিজেপি নেতা কাজল গোস্বামীর দীর্ঘ পাঁচ বছরের কঠোর প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের ঘটনা।
চুল-দাড়ি কামিয়ে শুদ্ধিকরণ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
ইংরেজবাজার পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের আরএসএস কর্মী কাজল গোস্বামী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এক কঠিন শপথ নিয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, তৃণমূল শাসনামলে তার বাড়িতে একাধিকবার হামলা হয়েছে এবং তার নাবালক সন্তানকেও রক্তাক্ত করা হয়েছিল। সেই যন্ত্রণার প্রতিবাদেই তিনি ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তিনি চুল, দাড়ি বা গোঁফ কাটবেন না। শনিবার কলকাতায় যখন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলছিল, ঠিক তখনই মালদায় ক্ষৌরকারের মাধ্যমে নিজের দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছরের ‘গুরুদশা’ থেকে মুক্তি পেলেন তিনি। এই উপলক্ষে সাধারণ মানুষের মধ্যে লাড্ডুও বিতরণ করেন এই বিজেপি নেতা।
ঘরছাড়াদের পৈতৃক ভিটেয় প্রত্যাবর্তন
পালাবদলের হাওয়ায় শুধু কাজল গোস্বামীই নন, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের কালাচাঁদ দাসের পরিবারও। ৫৯ বছর বয়সী কালাচাঁদ গত পাঁচ বছর ধরে সপরিবারে গ্রামছাড়া ছিলেন। তার দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তার বাড়ি ও মুদি দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছিল এবং ছেলেদের অপহরণ করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। প্রাণভয়ে জেলা ছেড়ে পালিয়ে থাকা এই পরিবারটি গত কয়েক বছর বিভিন্ন জায়গায় দিনমজুরি করে জীবন কাটাত। শনিবার নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিনে নিজের ভাঙাচোরা পৈতৃক ভিটেয় পা রেখেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। তাদের মতে, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তারা নতুন করে বাঁচার সাহস পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় মালদার রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই প্রত্যাবর্তন ও প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক জয়ের প্রতিফলন। তবে তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘সুযোগ সন্ধানী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার এই পালাবদল কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং তৃণমূল স্তরের বহু কর্মীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে এক বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলেছে। ঘরছাড়াদের ফিরে আসা এবং দীর্ঘকালীন ব্যক্তিগত শপথ ভঙ্গের ঘটনাগুলোই তার প্রমাণ দিচ্ছে।