রক্তক্ষয়ী মালি: আল-কায়দার হামলায় নিহত ৭০-এর বেশি, সেনার নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহ হামলায় গত কয়েক দিনে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মধ্য মালির বেশ কিছু গ্রামে চালানো এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত সশস্ত্র সংগঠন ‘জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’ (জেএনআইএম)। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই পরিকল্পিত হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রক্তক্ষয়ী হামলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংকট
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার কয়েকটি গ্রামে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করা হয়। এরপর শুক্রবার পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালায় সশস্ত্র যোদ্ধারা। স্থানীয় এক নেতার মতে, নিহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। অভিযোগ উঠেছে যে, নিকটবর্তী সেনা ছাউনিতে বারবার সাহায্যের আবেদন জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই নিরাপত্তাহীনতার সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা একের পর এক গ্রাম উজাড় করে দিচ্ছে। এর আগে গত সপ্তাহে রাজধানী বামাকো থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কেনিরোবা কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলা চালিয়ে বন্দিদের মুক্ত করার চেষ্টা করে বিদ্রোহীরা।
অস্থিতিশীলতার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিল মাস থেকেই মালিতে সহিংসতার মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে আল-কায়েদা সমর্থিত জেএনআইএম এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘অজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্ট’ (এফএলএ) হাত মেলানোর পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। মালির সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী রুশ বাহিনী উত্তর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল থেকে পিছু হটতে বাধ্য হওয়ার পর জঙ্গিরা নতুন করে সংগঠিত হয়েছে।
সেনা কমান্ডারদের মতে, সন্ত্রাসীরা বর্তমানে রাজধানী বামাকোকে অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে। প্রধান সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছে জেএনআইএম। এই অস্থিতিশীলতা মালির বর্তমান সামরিক সরকারের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপরও শরণার্থী ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।