চমক বিজয়ের মন্ত্রিসভায়, নজর কাড়লেন শিবকাশীর জয়ী তরুণী কীর্তনা

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ের মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠতম সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে দেশজুড়ে নজর কেড়েছেন ২৯ বছর বয়সী তরুণী এস কীর্তনা। শিবকাশী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত এই নেত্রী কেবল বয়সের কারণেই নয়, বরং তাঁর ভাষাগত দক্ষতা এবং ঐতিহাসিক জয়ের কারণে এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
সাত দশকের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস
আতশবাজির রাজধানী হিসেবে পরিচিত শিবকাশী কেন্দ্রে গত ৭০ বছর ধরে কোনো নারী প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেননি। সেই দুর্ভেদ্য দুর্গে হানা দিয়ে ১১,৬৯৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কীর্তনা। প্রথাগত রাজনীতির ছক ভেঙে একজন তরুণীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করাকে বিজয়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শপথ গ্রহণের পর উচ্ছ্বসিত কীর্তনা জানান, তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখার এই সাহস তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক দক্ষতাকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে চেনাবে।
হিন্দি ভাষায় পারদর্শিতা ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বরাবরই ভাষা একটি সংবেদনশীল ইস্যু। সেখানে তামিল ভাষার পাশাপাশি হিন্দি ও অন্যান্য ভাষায় কীর্তনার সাবলীল দক্ষতা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের দল ‘টিভিকে’ (তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম) যে ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বার্তা দিচ্ছে, তাতে কীর্তনার মতো বহুভাষাবিদ ও শিক্ষিত প্রতিনিধি জাতীয় স্তরে দলের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারেন।
জোট রাজনীতির সমীকরণ ও আগামীর প্রভাব
২০২৬-এর এই নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও সরকার গড়তে প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে ছিল বিজয়ের দল। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বাম দল এবং ভিসিকে-র মতো দলগুলোর নিঃশর্ত সমর্থনে ১২০টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করল টিভিকে জোট। মন্ত্রিসভায় কীর্তনার মতো নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, আগামী দিনে তামিলনাড়ুর প্রশাসনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্য এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই পালাবদল দক্ষিণ ভারতের রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।