ভবানীপুরের সেই রিটার্নিং অফিসার এবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে, প্রশাসনে বড় রদবদল

নির্বাচন চলাকালীন বারবার আলোচনায় আসা ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়কে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে (CMO) বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে আনা হলো। গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এই আধিকারিককে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। ভোটপর্ব শেষ হতেই রাজ্যের নতুন সরকার তাঁকে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নবান্নে শোরগোল পড়ে গেছে।
বিতর্ক ও নতুন নিয়োগের প্রেক্ষাপট
ভোটের সময় তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সুরজিৎ রায়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, নন্দীগ্রামে কর্মরত থাকাকালীন তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ‘ঘনিষ্ঠ’ আধিকারিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা এই রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে একাধিকবার পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হলেও, নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়ে আসাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় সুরজিৎ রায়ের এই নতুন পদের কথা জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সম্ভাব্য প্রভাব
কেবল সুরজিৎ রায়ই নন, প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে আরও আটজন আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়োগের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দপ্তরের কাজের ধরণ এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই বেছে বেছে বিশ্বস্ত ও দক্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী টিম গঠন করছেন। এই বড়সড় রদবদলের ফলে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে কাজের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। একইসঙ্গে, নির্বাচনের সময়কার বিতর্কিত আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় রাজনৈতিক উত্তাপ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আমলাতন্ত্রে এই রদবদল আগামী দিনে নতুন সরকারের প্রশাসনিক কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।