ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগেই চড়ছে পারদ, ইরান ও রাশিয়া ইস্যুতে চীনকে কোণঠাসা করতে মরিয়া আমেরিকা!

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগেই চড়ছে পারদ, ইরান ও রাশিয়া ইস্যুতে চীনকে কোণঠাসা করতে মরিয়া আমেরিকা!

বিশ্বের দুই মহাশক্তিধর দেশ আমেরিকা ও চীনের মধ্যে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের আগেই ভূ-রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার বৈঠকে ইরান ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটন কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। মূলত চীনের কাছ থেকে আসা আয় এবং সরঞ্জাম কীভাবে ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে শক্তিশালী করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস।

রাশিয়া ও ইরানের রক্ষাকবচ কি চীন?

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, চীন থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব ইরান ও রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য বর্তমানে ‘লাইফলাইন’ বা জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, চীন কেবল দেশ দুটিকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে না, বরং সেখান থেকে বড় ধরনের অস্ত্র রপ্তানির প্রবল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই শি জিনপিংয়ের সাথে পূর্ববর্তী আলাপে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। আসন্ন বৈঠকে এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

ইকোনমিক ফিউরি এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞা

চীনকে ঘিরে এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন গত সপ্তাহেই ইরানকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ বা অর্থনৈতিক ক্রোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানকে বিশ্বসন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ট্রেজারি বিভাগ ইরানি সেনাবাহিনীর আর্থিক উৎসগুলো সমূলে উৎপাটন করতে আগ্রাসী ভূমিকা নিচ্ছে।

বিশেষ করে, ইরানের তেল বিক্রির অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত তিনটি প্রধান মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র এবং বেশ কিছু ‘শেল’ কো ম্পা নির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সংস্থা ওফাক (OFAC)। জানা গেছে, ইরানি তেলের অধিকাংশ লেনদেন সম্পন্ন হয় চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। এই কো ম্পা নিগুলো সেই অর্থকে বিভিন্ন মুদ্রায় রূপান্তর করে ইরানের সামরিক খাত এবং তাদের আঞ্চলিক ছায়া গোষ্ঠীগুলোর (প্রক্সি নেটওয়ার্ক) কাছে পৌঁছে দেয়। এই কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার মাধ্যমেই চীনকে ইরানের দিক থেকে সরিয়ে আনতে চাইছে আমেরিকা। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বেইজিং শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের দাবিতে কতটা নতি স্বীকার করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *