সাংসদ মিতালি বাগের বাড়ির পাশেই ‘মিনি নবান্ন’! তৃণমূল কার্যালয়ে সরকারি সামগ্রীর পাহাড়, তুঙ্গে বিতর্ক

আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগের বাড়ির সন্নিকটে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হুগলির গোঘাটের হাজিপুরে অবস্থিত ওই কার্যালয়ের তালা খুলতেই থরে থরে সাজানো সরকারি লোগো লাগানো ত্রিপল এবং শস্য বীজের বস্তা প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
পার্টি অফিসে সরকারি সরঞ্জামের স্তূপ
সোমবার সকালে হাজিপুরের ওই দলীয় কার্যালয়টি খোলা হলে দেখা যায়, ভেতরটি কার্যত একটি সরকারি গুদামে পরিণত হয়েছে। সেখানে কেবল ত্রিপল বা বীজ নয়, আলমারি ভর্তি নতুন শাড়ি এবং সাদা থানও পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঝড়ে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁরা কখনও সরকারি ত্রিপল পাননি, অথচ সেইসব সামগ্রী দলীয় কার্যালয়ে মজুত করে রাখা হয়েছিল। এমনকি কৃষি কাজের জন্য বরাদ্দ শস্য বীজও কৃষকদের না দিয়ে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও প্রভাব
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপি কর্মীদের দাবি, সরকারি সম্পদ চুরি করে দলীয় কার্যালয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং সম্ভবত এগুলি বাইরে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এলাকার দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যেই ব্লক থেকে এই সামগ্রীগুলো আনা হয়েছিল। তবে সরকারি ত্রাণ কেন সরকারি দপ্তরের পরিবর্তে দলীয় কার্যালয়ে রাখা হলো, সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এমন তথ্য সামনে আসায় শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ত্রাণ চুরির এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আগামী দিনে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।