দায়িত্ব পেয়েই ‘অ্যাকশন মোডে’ মন্ত্রী ক্ষুদিরাম! অবৈধ মাদ্রাসা নিয়ে দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি

রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ চারটি দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েই হার্ডলাইনে নবনিযুক্ত মন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু। সোমবার কার্যভার গ্রহণ করেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষার নামে কোনো ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে অনুমোদনহীন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে চলা মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পেশায় শিক্ষক ক্ষুদিরামের মতে, মাদ্রাসা শিক্ষা রাজ্যের মূল শিক্ষা কাঠামোরই অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই এখানে আলাদা কোনো নিয়ম বা বিশৃঙ্খলা চলতে দেওয়া যায় না।
মাদ্রাসা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোর অঙ্গীকার
মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু মাদ্রাসা সরকারি নিয়ম না মেনে বা পর্যাপ্ত নথি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও ছাত্রসংখ্যা নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, আবার কোথাও পরিকাঠামো ও নথিপত্রে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কোনো দুর্নীতি বা বেআইনি কাজ চললে সরকার নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বৈধতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
ভুয়ো শংসাপত্র ও অধিকার হরণ রুখতে পদক্ষেপ
মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জাল জাতিগত শংসাপত্র (এসসি/এসটি সার্টিফিকেট) দেখিয়ে প্রকৃত আদিবাসী ও তফসিলি সম্প্রদায়ের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ট্রাইবাল ডেভেলপমেন্ট ও মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের লক্ষ্য হিসেবে তিনি প্রকৃত মানুষের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
প্রভাব ও প্রশাসনিক লক্ষ্য
বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে রাজ্যের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বেআইনি মাদ্রাসা বন্ধের হুঁশিয়ারি এবং ভুয়ো শংসাপত্র বাতিলের পদক্ষেপে যেমন স্বচ্ছতা ফিরবে, তেমনি প্রকৃত বঞ্চিত ও অনগ্রসর মানুষেরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আইনের শাসন কায়েম করে দুর্নীতির চক্র ভাঙাই এখন নবনিযুক্ত এই মন্ত্রীর প্রধান চ্যালেঞ্জ।