দল আর সরকার এক নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ‘লক্ষ্মণরেখা’ মনে করালেন শমীক

দল আর সরকার এক নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে ‘লক্ষ্মণরেখা’ মনে করালেন শমীক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির আঙিনায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করার আগেই শুভেন্দু অধিকারীকে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের এই বার্তায় পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী দিনে শাসকের চেয়ারে বসে সরকার ও দলের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ‘লক্ষ্মণরেখা’ বজায় রাখতে হবে।

প্রশাসনের অরাজনৈতিকীকরণের লক্ষ্য

শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, নবগঠিত এই সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের সরকার নয়, বরং এটি সমগ্র ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার’। তাঁর মতে, বিগত তৃণমূল জমানায় প্রশাসনের যে রাজনীতিকরণ হয়েছিল, তা এবার বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে সরকার ও দলকে পৃথক সত্তা হিসেবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও একই সুরে প্রশাসন থেকে দুর্বৃত্তায়ন দূর করার কথা বলেছিলেন।

দল ও সরকারের মেলবন্ধন বনাম স্বকীয়তা

সরকার ও দলের এই পৃথকীকরণের বার্তার মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। নবান্নে যাওয়ার আগে তিনি সল্টলেকে রাজ্য সভাপতির বাসভবনে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর অগ্রজ নেতাকে সঙ্গে নিয়ে সেক্টর ফাইভের পার্টি অফিসে গিয়ে কর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিয়েছেন যে, প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখলেও দলের আদর্শের প্রতি তিনি অটল।

উন্নয়ন ও সমন্বয়ে নতুন দিশা

দলের এই নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সুফল দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি কার্যকর করার ক্ষেত্রে দল সরকারকে সবরকম সহযোগিতা করবে, কিন্তু প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নবান্নের অলিন্দে এই তাত্ত্বিক বিভাজন বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *