আসামে হিমন্ত-ঝড়: আজ রাজকীয় শপথ, মঞ্চে মোদি-শাহের সঙ্গে শুভেন্দুও!
গুয়াহাটি: উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে নয়া ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয়বারের মতো আসামে সরকার গঠন করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২০১৬ ও ২০২১ সালের সাফল্যের ধারা বজায় রেখে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিপুল জনসমর্থন পেয়েছে গেরুয়া শিবির। আজ, মঙ্গলবার গুয়াহাটির খানাপাড়ায় পশু চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের ময়দানে দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ৫সে৭ বছর বয়সী এই নেতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সেজে উঠেছে গোটা গুয়াহাটি।
ঐতিহাসিক জয় ও ক্ষমতার সমীকরণ
২০১৬ সালে সর্বানন্দ সোনেওয়ালের নেতৃত্বে আসামে প্রথমবার কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল বিজেপি। ২০২১ সালে হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত ধরে সেই জয় আরও সুসংহত হয়। তবে এবারের জয় আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। বিধানসভায় এককভাবে ও জোট মিলিয়ে ১০২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এনডিএ। গত রবিবার হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এরপরই তিনি রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্যের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেন।
শপথ মঞ্চে হেভিওয়েটদের ভিড়
আজকের এই মেগা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। এছাড়াও আমন্ত্রিত রয়েছেন বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। বিশেষ নজর কাড়ছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত শনিবার কলকাতায় শপথ নেওয়ার পর প্রথমবার ভিনরাজ্যের কোনো মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গুয়াহাটি পৌঁছাচ্ছেন তিনি।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই প্রত্যাবর্তন উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির অবস্থানকে আরও নিশ্ছিদ্র করল। এনআরসি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং হিন্দুত্বের কৌশলী মিশেলে আসামের জনমানসে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। টানা তিনবার ক্ষমতায় আসায় রাজ্যে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর গতি ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নীতির যথাযথ প্রয়োগ আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আজ বেলা ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ শপথ গ্রহণের পরেই নতুন মন্ত্রিসভার রূপরেখা স্পষ্ট হবে।