ভোট মিটতেই কি বড় সংকটে দেশ? প্রধানমন্ত্রীর ৮ আর্জি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

ভোট মিটতেই কি বড় সংকটে দেশ? প্রধানমন্ত্রীর ৮ আর্জি ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

নির্বাচনী ডামাডোল থামতে না থামতেই দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একের পর এক বিশেষ আহ্বান ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। গত ২৪ ঘণ্টায় দুবার জ্বালানি সাশ্রয়, সোনা কেনা কমানো এবং বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার মতো আটটি বিষয়ে জন সাধারণকে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে একে বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ‘জনভাগিদারী’ বলা হলেও, বিরোধীদের দাবি— এটি আসলে সাধারণ মানুষের ওপর বড় কোনো আর্থিক বোঝা চাপানোর প্রাথমিক প্রস্তুতি।

সংকট ও প্রধানমন্ত্রীর আরজি

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টিকে বর্তমান দশকের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, অশোধিত তেল ও ভোজ্য তেলের মতো পণ্য আমদানিতে ভারতকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এই চাপ সামলাতে তিনি দেশবাসীকে ব্যক্তিগত স্তরে জ্বালানি সাশ্রয়, গণপরিবহন ব্যবহার এবং কর্মক্ষেত্রে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ভার্চুয়াল মিটিংকে প্রাধান্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা করা এখন নাগরিক কর্তব্য।

আশঙ্কা ও প্রভাব

প্রধানমন্ত্রীর এই সাবধানী বার্তার পরেই সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচন শেষ হতেই দেশে ‘প্যানিক’ বা আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ও রাহুল গান্ধীর মতো নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী করার আগে প্রধানমন্ত্রী এটি একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে, যা গভীর অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একদিকে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার আশ্বাস দিলেও, অন্যদিকে খোদ প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বাঁচানোর আরজি আমজনতার মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাবে আগামী দিনে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং আমদানিকৃত বিলাসদ্রব্যের ওপর কড়াকড়ি আরোপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *