পকেটে টান! ৪ মাসে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

পকেটে টান! ৪ মাসে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, হু হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

দেশের খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতির পারদ ফের চড়তে শুরু করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ৩.৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এই হার ছিল ২.৭৪ শতাংশ। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই প্রবণতা সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে টান দিচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান এই মুদ্রাস্ফীতির নেপথ্যে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে খাদ্যদ্রব্যের লাগামহীন দাম। গত চার মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খাদ্য মুদ্রাস্ফীতির হার ২.১৩ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৪.২ শতাংশে পৌঁছেছে। চাল, ডাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় সামগ্রিক খুচরো মুদ্রাস্ফীতির ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

বিলাসবহুল পণ্যের বাজারে অস্থিরতা

শুধুমাত্র খাদ্যপণ্যই নয়, স্থাবর ও অস্থাবর পণ্যের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গয়না, আসবাবপত্র এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মতো পণ্যের মুদ্রাস্ফীতি এপ্রিলে একলাফে ৫৩.৬১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন শিল্প ও বাণিজ্য খাতের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রভাব ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

মুদ্রাস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সঞ্চয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে আসন্ন মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *