তপসিয়া অগ্নিকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জালে কারখানার মালিকসহ ২

মঙ্গলবার দুপুরে তপসিয়ার চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই তৎপর প্রশাসন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই কারখানার মালিক জাফর নিশাদ এবং ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। পাম অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি আজ বুধবারই তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করতে চলেছে।
অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে গাফিলতির অভিযোগ
তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলে অবস্থিত ওই চামড়ার কারখানায় মঙ্গলবার বিধ্বংসী আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। কারখানায় মজুত দাহ্য পদার্থের কারণে আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ভেতরে থাকা কর্মীরা বেরোনোর পথ পাননি। প্রাণ বাঁচাতে পাঁচজন কর্মী বাথরুমে আশ্রয় নিলেও ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে সেখানে আটকা পড়েন। দমকলের চারটি ইঞ্জিন দীর্ঘ চেষ্টার পর তাঁদের উদ্ধার করে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে পাঠালে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
প্রাথমিকভাবে দমকল বিভাগের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তবে কারখানায় অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়ম মেনে কারখানাটি চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজার। এই ঘটনার শিকড়ে পৌঁছাতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, পুর কমিশনার এবং দমকল সচিবসহ চার সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বুধবার এই কমিটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং এলাকার অন্যান্য কারখানার বৈধতা নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে রাজ্য সরকার। মূলত দাহ্য পদার্থের গুদাম ও কারখানায় সুরক্ষাবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টিই এখন প্রশাসনের নজরে।