লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, ১ জুন থেকে ৩০০০ টাকা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেতে আজই সেরে নিন এই কাজ

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, ১ জুন থেকে ৩০০০ টাকা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পেতে আজই সেরে নিন এই কাজ

রাজ্যে নারী ক্ষমতায়ন ও আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে এক বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নবগঠিত সরকার। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে এবার চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। নতুন এই প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করে মাসিক ৩০০০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুন থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ সরাসরি পৌঁছে যাবে বলে জানা গেছে। তবে এই বর্ধিত সুবিধা পেতে উপভোক্তাদের দ্রুত কিছু প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত নথির কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক দ্বিগুণ বৃদ্ধি ও যোগ্যতার মাপকাঠি

এতদিন পর্যন্ত রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১০০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকা করে ভাতা পেতেন, যা ফেব্রুয়ারিতে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০০ ও ১৭০০ টাকা হয়েছিল। বিজেপি সরকারের নতুন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে সকল যোগ্য নারী মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্তারোপ করা হয়েছে। আবেদনকারীর বার্ষিক পারিবারিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর নামে কোনো পাকা বাড়ি, চারচাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর থাকলে তিনি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না।

ভাতা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়

নতুন প্রকল্পের সুবিধা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে পুরোনো গ্রাহকদের তথ্য যাচাই বা পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভাতা পেতে হলে আবেদনকারীর নিজস্ব সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ডের সংযোগ বা লিঙ্ক থাকতে হবে। আধার লিঙ্ক না থাকলে ভাতা বাতিল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ভেরিফিকেশন

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য আবেদনকারীকে বৈধ রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, আয়ের শংসাপত্র, বসবাসের প্রমাণপত্র এবং নিজস্ব মোবাইল নম্বর সযত্নে রাখতে বলা হয়েছে। সরকারি দপ্তর থেকে ভেরিফিকেশনের জন্য যোগাযোগ করা হলে এই নথিগুলো উপস্থাপন করতে হবে। সঠিক নথির অভাবে যাতে কোনো প্রকৃত অভাবী নারী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য দ্রুত নথিপত্র হালনাগাদ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্পের ফলে গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *