কয়লা পাচারকাণ্ডে অনুপ মাজির স্বস্তি কি শেষ হতে চলেছে?

কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বড়সড় মোড় নিল দেশের শীর্ষ আদালতে। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালার আগাম জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ ইডির আবেদনের ভিত্তিতে অনুপ মাজির কাছে জবাব তলব করে নোটিশ জারি করেছে। দিল্লি হাই কোর্ট এর আগে লালাকে আগাম জামিন দিলেও, ইডি সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ।
আদালতে ইডির জোরালো সওয়াল
সুপ্রিম কোর্টে ইডির পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু দাবি করেন, অনুপ মাজিই এই বিশাল কয়লা পাচার চক্রের মূল হোতা বা ‘মাস্টারমাইন্ড’। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) খনি থেকে অবৈধভাবে অন্তত ২,৭৪২ কোটি টাকার কয়লা পাচার করে জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠন করা হয়েছে। ইডির অভিযোগ, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অনুপ মাজি তদন্তকারীদের এড়িয়ে চলেছেন এবং যথাযথ সহযোগিতা করেননি। এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা লেনদেনের জন্য একাধিক শেল কো ম্পা নি ও ভুয়ো ডিরেক্টর ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
পাল্টা যুক্তি ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
অন্যদিকে, অনুপ মাজির আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে আদালতে জানান যে তাঁর মক্কেল ইতিমধ্যেই ২৩ বার ইডির জেরার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তাই তাঁকে নতুন করে হেফাজতে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট ইডির দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। লালার জবাব পাওয়ার পর এই মামলার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হবে।
মামলার উৎস ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০২০ সালে সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর-এর সূত্র ধরে এই তদন্ত শুরু হয়। অনুপ মাজির হিসাবরক্ষকের থেকে উদ্ধার হওয়া নথি এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র এই মামলাকে রাজনৈতিকভাবেও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। যদি সুপ্রিম কোর্ট লালার আগাম জামিন খারিজ করে দেয়, তবে ইডি তাঁকে হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। এর ফলে পাচার হওয়া অর্থের উৎস এবং নেপথ্যে থাকা আরও বড় মাথার নাম প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা বাড়ছে।