বন্ধ হচ্ছে তারস্বরে মাইক! মন্দির-মসজিদে লাউড স্পিকার নিয়ে বড় নির্দেশ শুভেন্দু সরকারের

রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ও শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার ধর্মীয় উপাসনালয়ে লাউডস্পিকার ব্যবহারের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করল নবগঠিত সরকার। উচ্চ আদালতের নির্দেশিকা মেনে মন্দির, মসজিদ বা যে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নির্ধারিত মাত্রার বাইরে মাইক বাজানো রুখতে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনজীবনকে শব্দদূষণ মুক্ত রাখা এবং আদালতের রায় কার্যকর করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও আইনি কঠোরতা
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ লঙ্ঘন করে কোনোভাবেই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উচ্চস্বরে মাইক বাজানো যাবে না। বিশেষ করে মন্দির এবং মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের ডেসিবল মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সূত্রের খবর, পুলিশ প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই নিয়ম অমান্য করলে কোনো আপস না করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে এবং অসুস্থ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামাজিক শৃঙ্খলা ও সম্ভাব্য প্রভাব
শুধুমাত্র লাউডস্পিকার নয়, রাস্তার ওপর ধর্মীয় জমায়েত এবং নমাজ পড়ার মতো বিষয়ের ওপরও রাশ টানতে চাইছে বর্তমান শাসক শিবির। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং সম্প্রতি জানিয়েছেন, রাস্তায় নমাজ পড়ার কারণে যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করে প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, ধর্মীয় উপাসনা নির্দিষ্ট উপাসনালয়ের ভেতরেই সম্পন্ন করা শ্রেয়।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন সরকারের অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে যেমন একদিকে যানজট ও শব্দদূষণ কমবে, অন্যদিকে নিয়ম কার্যকর করা নিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা সাধারণ জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। মূলত নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং রাস্তা সর্বসাধারণের চলাচলের উপযোগী রাখতেই এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।