তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে গ্রেফতার কারখানার মালিক ও ম্যানেজার, আজই জমা পড়ছে তদন্ত রিপোর্ট

কলকাতার তিলজলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট চামড়ার কারখানার মালিক জাফর নিশাদ এবং কারখানার ম্যানেজারকে। মঙ্গলবার দুপুরে তপসিয়ার জিজে খান রোডের একটি চারতলা ভবনে আগুন লেগে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও তিন জন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিলজলার এই ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে কর্মীরা বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। উদ্ধারকারীরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর রাতেই এফআইআর দায়ের করা হয় এবং প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে যে, দীর্ঘদিন ধরে কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই এই কারখানাটি চলছিল। এমনকি ভবনের কাঠামোতে দমকলের ঢোকা বা বেরোনোর কোনও ন্যূনতম ব্যবস্থা ছিল না।
তদন্তে কঠোর প্রশাসন ও আইনি সক্রিয়তা
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দ্রুত চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার, পুর কমিশনার, দমকল এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প দফতরের সচিবকে নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে আজ সকাল ১১টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, রাজ্যে কোনও বেআইনি কারখানা বা জতুগৃহ চলতে দেওয়া হবে না এবং আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নজরদারি
সাড়ে তিন মাস আগের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতে প্রলেপ পড়ার আগেই তিলজলার এই দুর্ঘটনা রাজ্য সরকারকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, পূর্বতন প্রশাসনের সময় থেকে গড়ে ওঠা এই ধরনের বেআইনি নির্মাণগুলো চিহ্নিত করতে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি সন্দেহভাজন ভবনকে নোটিস পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনে সরকার সরাসরি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিলজলার এই ঘটনার রেশ ধরে আগামী দিনে শহরের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কলকারখানাগুলোতে অগ্নি-সুরক্ষা বিধি মানার ক্ষেত্রে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।